
আজ লোকসভা ভোট হলে কারা সরকার গঠন করবে? প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশবাসী কি এখনও নরেন্দ্র মোদীকেই পছন্দ করছেন? এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলল ইন্ডিয়া টুডে ও সি ভোটারের 'মুড অফ দ্য নেশন' (MOTN) সমীক্ষায়।
আজ লোকসভা ভোট হলে ফের সরকার গড়বে এনডিএ। ৩২৬ টি আসন তাদের দখলে থাকবে। সেখানে ইন্ডিয়া জোটের দখলে আসতে পারে ১৮৫ আসন। অন্যরা পেতে পারে ৩২ আসন। জানা গিয়েছে সমীক্ষায়।
ভোট শতাংশের হিসাবে, এনডিএ ৪৫ শতাংশ, ইন্ডিয়া ব্লক ৩৯ শতাংশ এবং অন্যরা ১৬ শতাংশ আসন জিততে পারে। সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি একাই পেতে পারে ২৬১টি আসন। কংগ্রেস ১০৬ এবং দলগুলি ১৭৬টি করে আসন পেতে পারে বলে মনে করছেন আম আদমি।
এই সমীক্ষায় চলতি বছরের ১ জুলাই ২৫ অগাস্ট পর্যন্ত সব রাজ্য এবং লোকসভা কেন্দ্র জুড়ে বিভিন্ন বয়স, জাতি, ধর্ম এবং লিঙ্গের ২৫,১৮৪ জন প্রাপ্তবয়স্কের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। মোট ১,১৬,৬৪৪ জনের মতামতের সারসংক্ষেপ করে বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। সমীক্ষার তথ্যে ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ত্রুটির সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যের হিসাবে, উত্তর প্রদেশে ইন্ডিয়া ব্লক ৪০ শতাংশ ভোট পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যেখানে এনডিএ-র ৪২ শতাংশ ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আসন সংখ্যার হিসাবে, ইন্ডিয়া ব্লক ৪১টি আসন এবং এনডিএ ৩৮টি আসন জিতবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
মহারাষ্ট্রে এনডিএ ৪৯ শতাংশ ভোট পাবে, সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ইন্ডিয়া ব্লক ৪৩ শতাংশ ভোট পেতে পারে। সব মিলিয়েএনডিএ ৩১টি এবং ইন্ডিয়া ব্লক ১৭টি আসন জিততে পারে। পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি এনডিএ-র অনুকূলে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ৪৬ শতাংশ ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা এনডিএ-র। সেখানে ইন্ডিয়া ব্লকের মাত্র ১১ শতাংশ ভোট প্রাপ্তির সম্ভাবনা। আসন সংখ্যার হিসাবে, এনডিএ ৩৫টি এবং ইন্ডিয়া ব্লক ৭টি আসন জিততে পারে।
পঞ্জাবে, ইন্ডিয়া ব্লক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে পারে। এনডিএ ১৬ শতাংশ। আসন সংখ্যার হিসাবে, ইন্ডিয়া ব্লক ১১টি এবং এনডিএ ১টি আসন জিতবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমত কী?
এই সমীক্ষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, এনডিএ সরকারের কর্মকাণ্ড এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে জনমত সামনে এসেছে। ৫১ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাজের প্রশংসা করেছেন। ১৭ শতাংশের দাবি নমোর কাজ গড়পড়তা। ২৭ শতাংশ মোদীর কাজকে সমর্থন করেননি। বরং দুর্বল বলেছেন।
এনডিএ সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য কী? এই প্রশ্নের উত্তরে ১৩ শতাংশ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বেছে নিয়েছেন। ১১ শতাংশ মানুষ রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে মত প্রকাশ করেছেন।
দলত্যাগ বিরোধী আইনকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন পেয়েছে। ৬৫ শতাংশ বলেছেন দলত্যাগ বিরোধী আইনকে শক্তিশালী করা উচিত। যেখানে মাত্র ১৪ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন।
পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী
দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও সমীক্ষালব্ধ ফলাফল সামনে এসেছে। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর জন্য সেরা প্রার্থী কে? এই প্রশ্নের উত্তরে ৪৯ শতাংশ নরেন্দ্র মোদীর নাম বলেছেন। রাহুল গান্ধী ২৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন, অন্যদিকে তামিলনাড়ুর নেতা সি. জোসেফ বিজয় ৯ শতাংশ সমর্থন পেয়ে পছন্দের প্রার্থী ছিলেন।
সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং এক দেশ এক ভোট
সীমানা পুনর্নির্ধারণের ভিত্তি কী হওয়া উচিত, সেই প্রশ্নেও আকর্ষণীয় ফলাফল সামনে উঠে এসেছে। ৪০ শতাংশ মনে করেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত। ৩৩ শতাংশ বলেছেন, শুধুমাত্র জনসংখ্যা ভিত্তি হওয়া উচিত, অন্যদিকে ৯ শতাংশ মনে করেন যে বর্তমান বিভাজনই অব্যাহত থাকা উচিত।
'এক দেশ, এক নির্বাচন' ইস্যুতে ব্যাপক সমর্থন
'এক দেশ, এক নির্বাচন' ইস্যুতে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে এনডিএ। ৭০ শতাংশ 'এক দেশ, এক নির্বাচন'-কে সমর্থন করেছেন, অন্যদিকে ২৪ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন।