
ভারতে সুপারি আমদানিতে জালিয়াতির বড়সড় চক্র ফাঁস করল কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই আমদানি চক্রের ফলে মার খাচ্ছিল ভারতীয় সুপারি চাষিরা। অবশেষে সেই চক্রের শিকড় উপরে ফেলতে সচেষ্ট ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স বা DRI।
তদন্তে উঠে এসেছে, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য দক্ষিণপূর্ব এশীয় দেশগুলো থেকে ভারতে ক্রমাগত সুপারি আমদানি করা হচ্ছিল। কিন্তু খাতায় কলমে দেখানো হচ্ছিল সেই সুপারি আসছিল বাংলাদেশ থেকে।
বাংলাদেশ দেখানোর কী সুবিধা?
আসলে ভারতে সুপারি আমদানিতে অভিযুক্তরা SAFTA-র সুযোগ নিয়ে চলছিল। এই SAFTA-র আওতায় শুল্ক ছাড় পাওয়া যায়। ভারতে সুপারি আমদানির উপর এমনিতে ১০০ শতাংশ বেসিক কাস্টমস ডিউটি প্রযোজ্য। তবে, SAFTA-র দরুন যোগ্য আমদানি হয় শুল্কমুক্ত। বাংলাদেশ থেকে আসা সুপারিও এই ছাড়ের আওতায় পড়ে। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অন্য দেশ থেকেও সুপারি ভারতে পাচার করা হচ্ছিল।
ক্ষতি হচ্ছিল ভারতীয় কৃষকদের
সস্তা বিদেশি সুপারি দেশীয় কৃষকদের ক্ষতি করে। নামমাত্র বা কোনও শুল্ক ছাড়াই অবৈধভাবে ভারতে সুপারি প্রবেশ করায় তা অভ্যন্তরীণ বাজারকে প্রভাবিত করে, যা দেশীয় সুপারি উৎপাদক এবং বৈধ ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের ক্ষতি করে। DRI-এর মতে, এই ধরনের অবৈধ আমদানি দেশীয় সুপারি উৎপাদকদের ক্ষতি করে, বাজারে দামের ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে।
ডিআরআই-এর তদন্তে উঠে এসেছে, এমন অবৈধ আমদানির কারণে সাম্প্রতিক কয়েক বছরে সরকারি কোষাগারের ২৫০০ কোটি টাকারও বেশি শুল্ক ক্ষতি হয়েছে। কয়েকমাস ধরে টানা তদন্ত চালানোর পর এই চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।