
'অখিলেশজি আমার বন্ধু, তাই মাঝে মাঝে আমার সাহায্য করে দেন', লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র (Narendra Modi)। এদিন বক্তব্য রাখার সময় শুরু থেকেই বারবার প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বিরোধী সাংসদরা। উত্তরে মোদী বলেন, 'মহিলারা আসন সংরক্ষণ পাবেন, তাই নিয়ে আশঙ্কা করছেন কেন? একবার আসতে তো দিন ওঁদের।' বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের মাঝে-মাঝেই তুমুল হই-হট্টগোল হয় সংসদে।
বৃহস্পতিবার লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট বলেন, 'মহিলাদের সংরক্ষণ নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। এই বিল মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য। এখানে অযথা রাজনীতি টানা ঠিক নয়।'
নারী সংরক্ষণ বিলের মাধ্যমে সংসদে মহিলা আসনে রিজার্ভেশন আনতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে সমাজবাদী পার্টি শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, এতে সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশ,সম্প্রদায়, জনজাতির মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ রাখতে হবে।
এই সময়েই সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদব (Dharmendra Yadav) সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, 'আপনি নিজে পিছিয়ে পড়া সমাজ থেকে উঠে এসেছেন। অথচ তাঁদের বিষয়ে কিছুই ভাবছেন না।' এই মন্তব্যের জবাবে মোদী খানিকটা কৌতুকের সুরেই বলেন, 'ধর্মেন্দ্রজি, আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ যে আপনি আমার পরিচয় করিয়ে দিলেন।' তাঁর এই মন্তব্যে শাসকদল বেঞ্চে হাসির রোল ওঠে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'হ্যাঁ, আমি পিছিয়ে পড়া সমাজ থেকে এসেছি। কিন্তু আমার লক্ষ্য একটাই-সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলা।' তিনি বলেন, দেশ তাঁকে সুযোগ দিয়েছে বলেই তিনি আজ এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছেন।
অন্যদিকে, অখিলেশ যাদব নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করে জানান, পিছিয়ে পড়া সমাজের কথা শুধু স্বীকার করলেই হবে না, তাঁদের বাস্তব সমস্যার সমাধানও করতে হবে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান ব্যবস্থায় সেই মানুষদের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে।
এই বিতর্কের জেরে সংসদে কয়েক দফা হইচই হয়। নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা চললেও, তার মাঝেই বারবার রাজনৈতিক তর্ক হতে থাকে। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার এই বিলকে নারী ক্ষমতায়নের বড় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে বিরোধীরা দাবি করছে, বাস্তবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। এই বিলের পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধিরও অভিযোগ তোলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ইস্যুতে শাসক-বিরোধী সংঘাত যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।