
National Anthem disrespect case: বম্বে হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা একটি পিটিশন খারিজ করেছে। বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি অমিত বোরকারের সিঙ্গল বেঞ্চ নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি বম্বে হাই কোর্ট। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা আবেদন খারিজ করেছে বম্বে হাই কোর্ট।
মুম্বইয়ের মাঝগাঁও নগর দায়রা আদালত জাতীয় সঙ্গীত অবমাননা মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমন পাঠিয়েছিল। এই মামলায় মুম্বইয়ের বিশেষ আদালত ‘পদ্ধতিগত ত্রুটি’র কথা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো মুম্বইয়ের মাঝগাঁও নগর দায়রা আদালতের সমন খারিজ করে দেয়। পাশাপাশি, জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা সংক্রান্ত অভিযোগে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর করার বিষয়টিতে নগর দায়রা আদালতকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে বলে মুম্বইয়ের বিশেষ আদালত। বম্বে হাই কোর্টে মমতা আবেদন জানান, ‘পদ্ধতিগত ত্রুটি’র কারণে নিম্ন আদালতের ওই মামলাটিকেই খারিজ করে দেওয়া হোক। কিন্তু মুম্বইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক আরএন রোকড়ের ওই নির্দেশকে বহাল রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন খারিজ করে দেয় বম্বে হাই কোর্ট।
এখন পরিস্থিতি কোন পথে এগোতে পারে?
বম্বে হাইকোর্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা ওই পিটিশন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর এখন পরিস্থিতি কোন পথে এগোতে পারে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার মামলাটি চলবে এবং নতুন করে গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কী শাস্তির বিধান রয়েছে?
এই প্রসঙ্গে আইনজীবী সৌরভ কুমার দাস বলেন, ভারতীয় সংবিধানের ৫১-এ (Article 51A) ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের মৌলিক কর্তব্য ভারতীয় সংবিধান, তার আদর্শ মেনে চলা, জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীতের সম্মান করা।
জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কী শাস্তি হতে পারে?
এই প্রশ্নের উত্তরে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী রাধামোহন রায় জানান, ১৯৭১-এর ৬৯ নম্বর জাতীয় অবমাননা প্রতিরোধ আইনের ধারা ৩ (Prevention of Insults to National Act No. 69 Of 1971, Section 3) অনুযায়ী, দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৩ বছরের হাজতবাস অথবা জরিমানা অথবা উভয়ই হতে পারে।
জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কোনও জনপ্রতিনিধির আর কী শাস্তি হতে পারে?
রাধামোহনবাবুর উত্তর, সে ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ৮-এর ৩ ধারা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ সাজা হিসাবে কোনও জনপ্রতিনিধির (সাংসদ, বিধায়ক) সদস্যপদ বাতিল হতে পারে।
বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশের পর এখন কোন পথে এগোবে এই মামলা?
রাধামোহনবাবু জানান, বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশে, এখন ম্যাজিস্ট্রেটকে নতুন করে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। এর অর্থ হল, ম্যাজিস্ট্রেটকে নতুন করে তদন্ত করে দেখতে হবে যে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা হয়েছে কিনা! যদি ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত বা পর্যবেক্ষণে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার বিষয়টি নিশ্চিত হয়, সে ক্ষেত্রে ওই রিপোর্ট জমা পড়বে আদালতে। আদালত তখন ভারতীয় দণ্ডবিধির ২০২-এর এ ধারায় অভিযুক্তকে সমন পাঠাবে। নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে আদালতে হাজির না হলে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে ২০২-এর বি ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে পারে আদালত।
জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে মমতা বন্দ্যোপাধায়ের কী কী শাস্তি হতে পারে?
এই প্রশ্নের উত্তরে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী রাধামোহন রায়ের স্পষ্ট বক্তব্য, “জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননায় যে কোনও বিধায়ক/সাংসদ অথবা সাধারণ নাগরিকেরই এক এবং অভিন্ন শাস্তির বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১৯৭১-এর ৬৯ নম্বর জাতীয় অবমাননা প্রতিরোধ আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী, দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৩ বছরের জেল অথবা জরিমানা অথবা উভয়ই হতে পারে। তবে ১৯৫১-এর জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৮-এর ৩ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা হিসাবে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হতে পারে। তবে গোটা বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন। আইন অনুযায়ী শাস্তির আশঙ্কা থাকলেও এখনই এ বিষয়ে কিছুই বলার মতো সময় আসেনি। কারণ, গোটা বিষয়টি এখন ম্যাজিস্ট্রেটের পর্যবেক্ষণের পর্যায়ে রয়েছে।”