
নেহা বোরা। দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলন থেকে প্রথম চিনেছিল দেশ। তার পর থেকে একের পর এক আন্দোলনে দেখা গিয়েছে এই তরুণী নেত্রীকে। তাঁকে দেখা গিয়েছে রাহুল গান্ধীর পাশেও। ইন্ডিয়া ব্লকের মক সংসদ থেকে রামলীলা ময়দানের সমাবেশ, সব জায়গায় বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছেন। সেই নেহা বোরার একটি লাল রঙের টিশার্ট নিয়ে খুব আলোচনা হয়েছিল। লেখা ছিল 'ওয়ান পিস'। কী এই টিশার্ট, কেন এটা আলোচনার কেন্দ্রে, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
ঘটনা গত ১০ অক্টোবরের। যন্তর মন্তরে সিজেপির ডাকে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন নেহা। পরনে ছিল লাল রঙের একটি টিশার্ট। তাতে লেখা 'ওয়ান পিস'। লোগোর 'ও' অক্ষরের জায়গায় ছিল 'মানুষের খুলি'। সেই খুলির মাথায় হলুদ কমলা রঙের একটি টুপি। নেহার টিশার্ট শুধু ফ্যাশনের বিষয় হয়ে থাকেনি। বরং তা আরও বড় একটি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কাল্পনিক কোনও প্রতীক কি প্রতিবাদের সর্বজনীন ভাষা হয়ে উঠতে পারে? নাকি অশান্তির মুহূর্তে এমন প্রতীকের ব্যবহার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সঙ্গে হিংসার যোগসূত্র তৈরি করতে পারে?
কেন বিতর্কে 'ওয়ান পিস' টিশার্ট
ফাঁকা চোখের খুলি, আড়াআড়ি রাখা দুটি হাড় এবং মাথায় হলুদ কমলা রঙের খড়ের টুপি। এই তিনটি উপাদানেই তৈরি জলি রজার প্রতীক। দেখলে মনে হয়, খুলিটি যেন বাঁকা হাসি হাসছে। কিন্তু মাঙ্গার পাতার গণ্ডি পেরিয়ে এই প্রতীকের অর্থ এখন অনেক দূর ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়ান পিস সিরিজে এই জলি রজার স্ট্র হ্যাট জলদস্যুদের পতাকা। তাদের নেতা মাঙ্কি ডি লুফি। কাল্পনিক এই জলদস্যু দুর্নীতিগ্রস্ত ও অত্যাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। তার মাথার খড়ের টুপিই এই জলদস্যু দলের পতাকাকে অন্য সাধারণ জলদস্যুদের প্রতীক থেকে আলাদা করেছে।
একাধিক দেশে ব্যবহার
নেপালের আন্দোলনের সময় একটি ছবিতে দেখা গিয়েছিল এক বিক্ষোভকারী হাতে ওই পতাকা। ইন্দোনেশিয়াতেও সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে গাড়ি, ট্রাক, বাইক এবং বাড়ির বাইরে এই পতাকা লাগিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। সেখানে বিক্ষোভ ক্রমশ ভয়াবহ হিংসার চেহারা নেয়। ফিলিপিন্সেও সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীদের হাতে দেখা যায় একই প্রতীক। কয়েকটি আন্দোলনে প্রাণঘাতী হিংসার ঘটনাও ঘটে। সম্প্রতি ফ্রান্সেও শিক্ষার পরিকাঠামোর উন্নতির দাবিতে হাজার হাজার পড়ুয়ার প্রতিবাদে দেখা গিয়েছিল এই পতাকা।
কোথায় উৎপত্তি
এটি জাপানি মাঙ্গা সিরিজ ওয়ান পিসের স্ট্র হ্যাট জলদস্যুদের প্রতীক জলি রজার। ১৯৯৭ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই মাঙ্গা। ২০২৫ সালে নেপালের জেন জি আন্দোলনেও দেখা গিয়েছিল এই পতাকা। ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স এবং ব্রিটেনের বিভিন্ন বিক্ষোভেও ব্যবহৃত হয়েছে এই প্রতীক।