Advertisement

এক টাকার কয়েন থেকে বিতর্কিত মানচিত্র সরাচ্ছে নেপাল, বড় সাফল্য ভারতের

তবে মন্ত্রিসভার সূত্র অনুযায়ী, দুই টাকার কয়েনে আগের মতোই মানচিত্রটি থাকবে। ব্যাঙ্কের মুখপাত্র গুরু প্রসাদ পৌডেল জানিয়েছেন, কয়েনের আকার এবং ওজন কমানোর জন্য নেপাল রাষ্ট্র ব্যাঙ্ক পুরনো নকশার পরিবর্তে নতুন নকশার প্রস্তাব দিয়েছে।

মানচিত্র নিয়ে অবস্থান বদলাল নেপাল? মানচিত্র নিয়ে অবস্থান বদলাল নেপাল?
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 20 Jul 2026,
  • अपडेटेड 9:49 PM IST
  • সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা নেপাল রাষ্ট্র ব্যাঙ্ককে নতুন নকশার এক এবং দুই টাকার কয়েন তৈরির অনুমোদন দিয়েছে
  • তারা জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক টাকার কয়েন থেকে নেপালের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র সরিয়ে দেওয়া হবে

নেপালের সঙ্গে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বড় সাফল্য ভারতের। নেপাল এক টাকার নতুন কয়েন চালু করতে চলেছে। এই কয়েনে সেই বিতর্কিত মানচিত্র থাকবে না। আগের এক টাকার কয়েনে লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি এবং লিপুলেখকে নেপাল নিজেদের অংশ বলে দেখিয়ে এসেছে। তার পরিবর্তে নতুন এক টাকার এই কয়েনে একটি মঠের ছবি থাকবে।

নেপাল দাবি করে এসেছে, লিপুলেখ এবং কালাপানি তাদের এলাকা। অন্যদিকে ভারতের দাবি, এই এলাকাগুলি তাদের। ২০২০ সালের মে মাসে নেপালের তৎকালীন কেপি ওলি সরকার কালাপানি এবং লিপুলেখ-সহ এই এলাকাগুলিকে নিজেদের সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। যা নিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠে। 

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা নেপাল রাষ্ট্র ব্যাঙ্ককে নতুন নকশার এক এবং দুই টাকার কয়েন তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক টাকার কয়েন থেকে নেপালের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র সরিয়ে দেওয়া হবে। নতুন নকশার এক টাকার কয়েনে নেপালের সেই বিতর্কিত মানচিত্রের (যেখানে লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ এবং কালাপানি অন্তর্ভুক্ত ছিল) পরিবর্তে মুস্তাং জেলার মারাং গ্রামে অবস্থিত ‘লো ঘ্যাকার মঠ’-এর ছবি থাকবে। এই মঠকে নেপালের প্রাচীনতম মঠগুলির অন্যতম বলে মনে করা হয়।

তবে মন্ত্রিসভার সূত্র অনুযায়ী, দুই টাকার কয়েনে আগের মতোই মানচিত্রটি থাকবে। ব্যাঙ্কের মুখপাত্র গুরু প্রসাদ পৌডেল জানিয়েছেন, কয়েনের আকার এবং ওজন কমানোর জন্য নেপাল রাষ্ট্র ব্যাঙ্ক পুরনো নকশার পরিবর্তে নতুন নকশার প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন কয়েনে এক টাকার কয়েনের ওজন আগের ৪ গ্রাম থেকে কমে ৩.২ গ্রাম হবে এবং দুই টাকার কয়েনের ওজন ৫ গ্রাম থেকে কমে ৩.৮ গ্রাম হবে। পাশাপাশি, এই কয়েনগুলি মিশ্র ধাতুর পরিবর্তে স্টিল দিয়ে তৈরি হবে এবং এর রং হলুদের পরিবর্তে স্টিলের মতো সাদা হবে।

নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির প্রবীণ নেতা ভীম রাওয়াল এক টাকার কয়েন থেকে নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র সরানোর সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন এবং একে নেপালের ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে গুরুতর পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। রাওয়াল দাবি করেছেন, সরকার এবং ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি- উভয়কেই এই বিষয়ে অবিলম্বে ব্যাখ্যা দিতে হবে। রাওয়াল বলেন, 'যদি প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সরকার সত্যিই এক টাকার কয়েন থেকে নেপালের মানচিত্র (যার মধ্যে লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ এবং কালাপানি অন্তর্ভুক্ত) সরিয়ে তার পরিবর্তে লো ঘ্যাকার মঠের ছবি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তাহলে এটি আরও একটি গুরুতর রাষ্ট্রবিরোধী সিদ্ধান্ত হবে।'

Advertisement

লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ এবং কালাপানি নিয়ে বিরোধ

লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ এবং কালাপানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে নেপালের বিরোধ আজকের নয়। এই অঞ্চলটি উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলা, নেপালের সুদূর-পশ্চিমাঞ্চল এবং চিনের (তিব্বত) ত্রি-জংশনের কাছে অবস্থিত। ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তি অনুযায়ী ভারত-নেপাল সীমান্ত কালী নদীকে ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিরোধের মূল বিষয় হল, কালী নদীর প্রকৃত উৎস কোথায়। নেপালের দাবি, নদীটির উৎস লিম্পিয়াধুরা, তাই লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি এবং লিপুলেখের পুরো অঞ্চল তাদের অংশ। অন্যদিকে ভারতের দাবি, নদীর উৎস কালাপানির কাছে, তাই এই অঞ্চলগুলি উত্তরাখণ্ডের অংশ। 

কালাপানি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, আর লিপুলেখ গিরিপথ কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা এবং ভারত-তিব্বত বাণিজ্যের প্রধান পথ। লিম্পিয়াধুরা নেপালের দাবিকৃত সবচেয়ে পশ্চিমের বিন্দু। ২০২০ সালে ভারত লিপুলেখ পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করার পর এই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। নেপাল নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে এই তিনটি অঞ্চলকে নিজেদের অংশ হিসেবে দেখায় এবং সেই মানচিত্রকে সাংবিধানিক স্বীকৃতিও দেয়। ভারত এই দাবিকে স্বীকার করে না এবং দুই দেশই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের কথা বলে আসছে। 


 
Read more!
Advertisement
Advertisement