
মধ্যপ্রদেশের সিংগ্রাউলিতে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার নিধি তিওয়ারির মৃত্যুর ঘটনায় প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশি তদন্তের মুখ এখন মৃতার প্রেমিক সোনু সিংয়ের দিকে। পরিবারের অভিযোগ, নিধির সঙ্গে সোনুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই সোনু নিধির উপর নজর রাখতেন। ঘটনার পর থেকেই সোনু মোবাইল বন্ধ। পরিবারের আরও অভিযোগ, এই সম্পর্কের কারণেই মানসিকভাবে চাপে ছিলেন নিধি। সেই কারণেই হয়তো আত্মহত্যা। যদিও মৃত্যুর আসল কারণ কী, তা নিয়ে মুখ খোলেনি পুলিশ। ঘটনার পুরোদমে তদন্ত চলছে।
হোটেলেই পরিচয়, তারপর প্রেম
নিধি তিওয়ারির মা হেমলতার দাবি, তাঁর মেয়ে সিংগ্রাউলির মোরওয়া এলাকার জিএস গ্র্যান্ড হোটেলে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। ওই এলাকায় নর্দার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড বা NCL-এর বিভিন্ন অফিস রয়েছে। ফলে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন সেখানে আসতেন।
NCL-এর আউটসোর্সিংয়ের আওতায় কাজ করা একটি সংস্থায় ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত সোনু সিং প্রায়ই সিংগ্রাউলিতে আসতেন এবং ওই হোটেলেই থাকতেন। সেখানেই নিধির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে পরিণত হয় বলে পরিবারের দাবি।
নিধির মা জানিয়েছেন, সোনুর সঙ্গে তাঁর মেয়ে প্রায়ই ফোনে কথা বলতেন। তাঁর দাবি, নিধির কানে প্রায় সবসময় ব্লুটুথ ডিভাইস থাকত এবং সেই মাধ্যমে সোনুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
সোনুকে নিয়ে পরিবারের গুরুতর অভিযোগ
হেমলতা তিওয়ারির দাবি, সোনু বিবাহিত এবং তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সোনু নিধির উপর সবসময় নজর রাখতেন। নিধির মা বলেন, বাড়িতে কোনও আত্মীয় এলে সোনু নানা ধরনের প্রশ্ন করতেন এবং অভিযোগ করতেন। পরিবারের দাবি, এই পরিস্থিতির কারণে নিধি প্রায় সবসময় অনলাইনে থাকতেন এবং সোনুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
তবে সোনুর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তের বিষয়। তাঁর বক্তব্যও সামনে আসেনি।
ঘটনার দিন ঠিক কী হয়েছিল?
নিধির মা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন পুজো-পাঠ করে তিনি উপরে নিজের ঘরে চলে যান। কিছুক্ষণ পর সোনু সিং তাঁর মাকে ফোন করেন বলে পরিবারের দাবি। হেমলতার বক্তব্য অনুযায়ী, ফোনে সোনু তাঁকে বলেন, 'আন্টি, তাড়াতাড়ি উপরে যান, নিধি গলায় দড়ি দিচ্ছে।'
এরপর পরিবারের সদস্যরা উপরে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের দাবি। পরে দরজা ভেঙে তাঁরা নিধিকে ফ্যানের সঙ্গে দোপাট্টা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিধির ১৬ লক্ষ ফলোয়ার
নিধি তিওয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন। তাঁর প্রায় ১৬ লক্ষ ফলোয়ার রয়েছ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি ছিল।
পরিবারের দাবি, নিধিই সংসারের অনেকটা দায়িত্ব সামলাতেন। তাঁর মা হেমলতা জানিয়েছেন, নিধির বাবা অশোক তিওয়ারিও ওই এলাকায় কাজ করতেন। পরে তাঁর বদলি হয়ে যায় এবং তিনি পরিবার থেকে দূরে চলে যান। এরপর তিনিই মেয়েদের বড় করে তোলেন বলে জানিয়েছেন হেমলতা।
ভাইরাল নিধির শেষ স্টেটাস
নিধির মৃত্যুর পর তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের একটি স্টেটাসও সামনে এসেছে। সেখানে নিধি লিখেছিলেন, 'আমার হৃদয়কে কেউ পূর্ণ করেনি, আমি নিজেই পূর্ণ করে নিয়েছি...'
এরপর তিনি লিখেছিলেন, নিজেকে ভালোবাসার কথা এবং অন্য কারও মধ্যে নিজেকে খোঁজার বদলে নিজের মধ্যেই নিজেকে খুঁজে নেওয়ার কথা।
এই পোস্টটি এখন তদন্তের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে জানা যাচ্ছে। পরিবারের দাবি, নিধি কোনও সম্পর্ক নিয়ে মানসিকভাবে সমস্যার মধ্যে ছিলেন। তবে তাঁর স্টেটাসের প্রকৃত অর্থ কী এবং মৃত্যুর সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তেই পরিষ্কার হবে।
পুলিশ এখন সোনু সিংয়ের ভূমিকা-সহ পুরো ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে। মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী ছিল, আত্মহত্যার আগে কী ঘটেছিল এবং নিধি ও সোনুর সম্পর্কের প্রকৃতি কী ছিল, সেই প্রশ্নগুলির উত্তরই এখন খুঁজছে তদন্তকারীরা।