
এবার থেকে বৈধ বিমা না থাকলে আর রাস্তায় ২ চাকা বের করা যাবে না? বিমা ছাড়া রাস্তায় চলা মোটরবাইকগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পথে সুপ্রিম কোর্ট। এই মর্মে দেশের শীর্ষ আদালাত ইনস্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (IRDAI) এবং সড়ক পরিবহণ মন্ত্রককে একটি পাইলট প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। এই প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে যে সব গাড়ির বৈধ বিমা থাকবে না, তাদের পেট্রোল বা ডিজেল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
শুধু তাই নয়, বিমাবিহীন গাড়ি শনাক্ত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, ট্রাফিক পুলিশের হাতে তাৎক্ষণিক বিমা যাচাইয়ের ব্যবস্থা এবং নতুন গাড়ির বাধ্যতামূলক থার্ড-পার্টি বিমার মেয়াদ বাড়ানোর মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।
বিমা না থাকলে মিলবে না পেট্রোল?
সুপ্রিম কোর্টের প্রস্তাব অনুযায়ী, IRDAI এবং সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক একটি পাইলট প্রকল্প তৈরি করবে, যার মাধ্যমে পেট্রোল পাম্পে কোনও গাড়িকে জ্বালানি দেওয়ার আগে তার বৈধ বিমা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
যদি দেখা যায়, গাড়িটির বৈধ মোটর বিমা নেই, তাহলে সেই গাড়িকে পেট্রোল বা ডিজেল দিতে অস্বীকার করা হতে পারে।
তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, এটি এখনও শুধুমাত্র একটি প্রস্তাবিত পাইলট প্রকল্প। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে দেশের সব পেট্রোল পাম্পে বিমাহীন গাড়িকে জ্বালানি দেওয়া বন্ধ হচ্ছে না। পাইলট প্রকল্পের ফলাফল ও বাস্তবায়নের সম্ভাবনা যাচাইয়ের পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অটোমেটিক ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত হবে বিমার তথ্যভান্ডার
আদালত আরও প্রস্তাব দিয়েছে, দেশের বিভিন্ন রাস্তা ও জাতীয় সড়কে থাকা Automatic Number Plate Recognition (ANPR) ক্যামেরাগুলিকে VAHAN গাড়ির ডেটাবেস এবং বিমার ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত করা হোক।
এর ফলে কোনও গাড়ির নম্বরপ্লেট স্ক্যান করেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা যাবে সেটির বৈধ বিমা রয়েছে কি না। যদি বিমা না থাকে, তাহলে সেই গাড়ির বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-চালান (e-challan) জারি করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে ANPR ক্যামেরা মূলত অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, রেড সিগন্যাল অমান্য করা বা উল্টো দিক দিয়ে গাড়ি চালানোর মতো ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ঘটনা শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। বিমার তথ্য যুক্ত হলে এর ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে।
ট্রাফিক পুলিশের হাতে থাকবে মোবাইল বিমা যাচাই ব্যবস্থা
সুপ্রিম কোর্টের আরও একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, ট্রাফিক পুলিশের হাতে মোবাইল অ্যাপ বা হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস তুলে দেওয়া যেতে পারে, যার মাধ্যমে রাস্তার উপরেই কোনও গাড়ির বিমা আছে কি না, তা মুহূর্তের মধ্যে যাচাই করা যাবে।
এই ডিভাইসগুলি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন এবং বিমার ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে কাগজে বিমার নথি দেখানোর প্রয়োজন ছাড়াই পুলিশ জানতে পারবে গাড়িটির বৈধ বিমা আছে কি না।
নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে বাড়বে বাধ্যতামূলক থার্ড-পার্টি বিমার মেয়াদ
নতুন কেনা গাড়ির জন্য বাধ্যতামূলক থার্ড-পার্টি মোটর বিমার মেয়াদ বাড়ানোরও প্রস্তাব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
প্রস্তাব অনুযায়ী—
> নতুন প্রাইভেট গাড়ির ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক থার্ড-পার্টি বিমার মেয়াদ ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৪ বছর করা হবে।
> নতুন ২ চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে এই মেয়াদ ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬ বছর করা হবে।
আদালতের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক বাধ্যতামূলক বিমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গাড়ির মালিকরা বিমা রিনিউ করেন না। ফলে বিপুল সংখ্যক গাড়ি বিমাহীন অবস্থায় রাস্তায় চলাচল করে। এই প্রবণতা কমাতেই বিমার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কেন এত কড়া পদক্ষেপ চাইছে সুপ্রিম কোর্ট?
সুপ্রিম কোর্টের মতে, দেশে থার্ড-পার্টি মোটর বিমা আইনত বাধ্যতামূলক হলেও বহু গাড়ি এখনও বৈধ বিমা ছাড়াই রাস্তায় চলছে।
এই পরিস্থিতি বদলাতে আদালত একাধিক স্তরে নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেছে। যেমন—
> পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি নেওয়ার সময় বিমা যাচাই,
> ANPR ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ,
> ট্রাফিক পুলিশের তাৎক্ষণিক ডিজিটাল যাচাই।
এর ফলে বিমাহীন গাড়ি সহজেই চিহ্নিত করা যাবে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
এখন কী হবে?
সুপ্রিম কোর্টের এই সমস্ত প্রস্তাব এখন IRDAI এবং সড়ক পরিবহণ মন্ত্রককে বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে 'বিমা না থাকলে জ্বালানি নয়' পাইলট প্রকল্প কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, যাতে পেট্রোল পাম্পের স্বাভাবিক পরিষেবা বা বৈধ গাড়িচালকদের অসুবিধা না হয়, তা পরীক্ষা করা হবে।
অর্থাৎ, এখনই সারা দেশে এই নিয়ম চালু হচ্ছে না। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই উদ্যোগ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভবিষ্যতে বিমাহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অবস্থান আরও কঠোর হতে চলেছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে মোটর বিমা বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।