
গুজরাতের আহমেদাবাদে চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, নিজের গোপন অভ্যাস ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে পিশেমশাইকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে ভাইপো। তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা রীতিমতো হতবাক করেছে তদন্তকারীদেরও।
আহমেদাবাদের শিলাজ এলাকার অবনীশ হাইটস আবাসনের বাসিন্দা মনীশভাইকে কয়েক দিন আগে তাঁর ফ্ল্যাট থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে ঘটনাটি ঘিরে রহস্য তৈরি হলেও তদন্তে সামনে আসে পরিবারেরই এক সদস্যের নাম। মৃতের শ্যালকের ছেলে ব্রজ সোনি ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্রজ গত ১০ দিন ধরে মনীশভাইদের বাড়িতেই থাকছিল। আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘটনার দিন ভোরে ব্রজ একটি ব্যাগ এবং মনীশভাইয়ের গাড়ি নিয়ে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যায়। এরপরই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে, বাড়ি থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা চুরি হয়েছে। পরে বোপাল থানার পুলিশ খুন ও ডাকাতির মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সূত্র ধরে উদয়পুরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে প্রায় ২ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে মহিলাদের অন্তর্বাসও।
আহমেদাবাদ গ্রামীণ পুলিশের সুপার প্রকাশ জাট জানিয়েছেন, চুরির সময় মনীশভাই ব্রজকে হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলেন। বিষয়টি পরিবারের অন্যদের কাছে জানাজানি হয়ে যাবে, এই আশঙ্কাতেই সে পিশেমশাইকে শ্বাসরোধ করে খুন করে। এরপর বাড়ি থেকে টাকা ও মহিলাদের পোশাক নিয়ে পালিয়ে যায়।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্তের মহিলাদের পোশাক পরার প্রতি বিশেষ আকর্ষণ ছিল। পরিবারের লোকজনও বিষয়টি জানতেন। এর আগেও সে মনীশভাইয়ের বাড়ি থেকে ২৫ হাজার টাকা চুরি করেছিল। তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধরও করেছিলেন। পুলিশ মনে করছে, আগের ঘটনার রেশ এবং নিজের গোপন অভ্যাস প্রকাশ্যে চলে আসার আতঙ্ক থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ব্রজ।