
ফের একবার খবরের শিরোনামে ওল্ড মঙ্ক। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) ও জনপ্রিয় এই মদের ব্র্যান্ডের মধ্যে বিবাদ আরও বাড়ছে। সোমবার বোম্বে হাইকোর্টে FSSAI জানিয়েছে, মোহন রকি স্প্রিংওয়াটার প্রাইভেট লিমিটেডের ওল্ড মঙ্ক যদি নিজেদের বোতলের লেবেলে 'রাম'-এর পরিবর্তে লেখাকে 'রামের মতো' (Rum Like) করে, তবেই তারা ওল্ড মঙ্ককে বিক্রির অনুমতি দেবে।
সোমবার বোম্বে হাইকোর্টে এই মামলায় সওয়াল জবাব চলাকালীন সময়ে FSSAI-এর পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল সিং বলেন , প্রস্তুতকারক প্রস্তাবিত লেবেলিং পরিবর্তনে সম্মত হলেই বাজারে তারা বিক্রিতে অনুমতি পাবে।
অন্যদিকে, উৎপাদনকারী সংস্থার পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ভেঙ্কটেশ ধোন্দ প্রধান বিচারপতি এম.সি. ত্রিপাঠি এবং বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনার বেঞ্চকে জানান, থানে জেলা ইউনিট থেকে বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞার কারণে সংস্থাটির ৫০০ কোটি টাকারও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে মহারাষ্ট্র আবগারি বিভাগেরও প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। আইনজীবী যুক্তি দেন, পণ্যটির বিক্রি শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রেই বন্ধ করা হয়েছে, অথচ অন্যান্য রাজ্যে এটি অবাধে বিক্রি হচ্ছে, এটি কেমন নিয়ম? এই নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রায় ৩০০ কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
কী নিয়ে এত বিতর্ক?
FSSAI-এর যুক্তি হল ওল্ড মঙ্ক নিউট্রাল স্পিরিট দিয়ে তৈরি, যার উপরে "রাম ফ্লেভার" মেশানো থাকে, যা মূল স্পিরিটের প্রাকৃতিক গঠনকে আড়াল করে। নিয়ন্ত্রক কমিটির বক্তব্য, এই ধরনের ফ্লেভার যোগ করা গ্রাহকদের জন্য বিভ্রান্তিকর। যদি "ফ্লেভারড স্পিরিট" বা "রাম-সদৃশ" হিসেবে লেবেল করা হয়, সেক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই।
অন্যদিকে, উৎপাদনকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ীই অনুমোদিত সংযোজনীসহ নিউট্রাল স্পিরিট ব্যবহার করা যায়। সংস্থাটির দাবি,বাজারে তাদের অন্যান্য প্রতিযোগীরাও একই প্রক্রিয়া ব্যবহার করে, কিন্তু শুধুমাত্র ওল্ড মঙ্কই এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।