Advertisement

omar abdullah nidhi razdan marriage : 'ওমর-নিধির বিয়ে অবৈধ', ফতোয়া জারি মৌলানার; আবদুল্লার নতুন স্ত্রীর পরিচয় জানেন?

ওমর আবদুল্লাহর প্রথম স্ত্রী ছিলেন পায়েল আবদুল্লাহ। ১৯৯৪ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে। দীর্ঘদিন আলাদা থাকার পর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।

নিধি ও ওমর (ছবি : PTI) নিধি ও ওমর (ছবি : PTI)
Aajtak Bangla
  • শ্রীনগর ,
  • 02 Nov 2026,
  • अपडेटेड 1:23 PM IST
  • মৌলানা শাহাবুদ্দিন রজভির বক্তব্য, ইসলামি শরিয়তে বিয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও শর্ত রয়েছে
  • তাঁর দাবি, মুসলিম পুরুষ ও অমুসলিম নারীর মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান মেনে চলা প্রয়োজন

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে সাংবাদিক নিধি রাজদানের বিয়ে ঘিরে নতুন বিতর্ক। বিয়ের দু'দিনের মধ্যেই এই সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি তুললেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মৌলানা মুফতি শাহাবুদ্দিন রজভি বেরেলভি। তাঁর দাবি, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী এই বিয়ে বৈধ নয়। কারণ, বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র ও পাত্রী দু'জনেরই মুসলিম হওয়া প্রয়োজন। ওমর মুসলিম হলেও নিধি রাজদান মুসলিম নন। তাই ইসলামি বিধান মেনে এই বিয়ে হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। 

কী বলেছেন মৌলানা?

মৌলানা শাহাবুদ্দিন রজভির বক্তব্য, ইসলামি শরিয়তে বিয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও শর্ত রয়েছে। তাঁর দাবি, মুসলিম পুরুষ ও অমুসলিম নারীর মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান মেনে চলা প্রয়োজন। সেই নিয়ম অনুযায়ী নিধি রাজদানের ইসলাম গ্রহণ করা উচিত ছিল। তাঁর বক্তব্য, বিয়ের আগে নিধি ইসলাম গ্রহণ করে ইসলামি রীতি মেনে নিকাহ করলে এই বিয়েকে শরিয়তসম্মত বলে বিবেচনা করা যেত। কিন্তু তা না হওয়ায় এই সম্পর্ককে তিনি 'নাজায়েজ' বলে উল্লেখ করেছেন।


শরিয়তে আপত্তি, আইনে কী অবস্থান?

প্রসঙ্গত, এই বিতর্কের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওমর আবদুল্লাহ ও নিধি রাজদানের বিয়ে হয়েছে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট বা বিশেষ বিবাহ আইনের অধীনে। এই আইনে ভিন্ন ধর্মের প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ ধর্ম পরিবর্তন না করেও বিয়ে করতে পারেন। অর্থাৎ, শরিয়ত অনুযায়ী নিকাহের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনও ধর্মীয় নেতার আপত্তি এবং ভারতীয় আইনে বিয়ের বৈধতা এক বিষয় নয়। ভারতের আইনে বিয়ের বৈধতা নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট বিবাহ আইন অনুযায়ী। ফলে কোনও ধর্মীয় নেতার ফতোয়া বা বক্তব্যের ভিত্তিতে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের অধীনে সম্পন্ন বিয়ে অবৈধ হয়ে যায় না।

কে এই নিধি রাজদান?

ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই আলোচনায় উঠে এসেছেন নিধি রাজদান। তিনি ভারতের পরিচিত টেলিভিশন সাংবাদিক, সংবাদ সঞ্চালক এবং লেখক। দীর্ঘ দু'দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত নিধি। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বিদেশনীতি নিয়ে তাঁর সাংবাদিকতা পরিচিতি পেয়েছে।

Advertisement

১৯৭৭ সালের ১১ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগামে জন্ম নিধির। তাঁর বাবা মহারাজ কৃষ্ণ রাজদান (এম কে রাজদান) একজন প্রবীণ সাংবাদিক। তিনি একসময় সংবাদসংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া বা পিটিআই-এর এডিটর-ইন-চিফ ছিলেন। দিল্লির লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মাস কমিউনিকেশন (IIMC) থেকে রেডিও ও টেলিভিশন সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা করেন নিধি।

দেশের রাজনীতি থেকে শুরু করে জম্মু ও কাশ্মীর, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, চিন এবং ইরানের মতো বিভিন্ন বিষয়ে রিপোর্টিং করেছেন। তাঁর সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন রামনাথ গোয়েঙ্কা অ্যাওয়ার্ড এবং ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউটের পুরস্কার।

ছবি : PTI

২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বই 'Left, Right & Centre: The Idea of India'। সাংবাদিকতার পাশাপাশি লেখক হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে তাঁর।

ওমরের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে নিধিরও

ব্যক্তিগত জীবনেও এর আগে একটি বিয়ে হয়েছিল নিধির। ২০০৫ সালে সাংবাদিক ও লেখক নীলেশ মিশ্রকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তবে সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০০৭ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

অন্যদিকে, ওমর আবদুল্লাহর প্রথম স্ত্রী ছিলেন পায়েল আবদুল্লাহ। ১৯৯৪ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে। দীর্ঘদিন আলাদা থাকার পর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। এরপরই ৩০ অক্টোবর ওমর ও নিধির বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে। পরের দিন দু'জনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দিয়ে নতুন জীবনের কথা জানান।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement