
'আমাদের আমদানির ওপর নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি।', LPG প্রসঙ্গে আজ এমনটাই বললেন ONGC-এর চেয়ারম্যান অরুণ কুমার সিং। পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, 'আমরা অনেক পণ্য এলপিজির দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিলাম। এটাই পরে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।' সেই সঙ্গে তাঁর আরও দাবি, ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়তি চাহিদার LPG এসেছে অনেক মূল্য চুকিয়ে। তাতেই বিপদ বাড়ছে।
এছাড়া অরুণ বলেন,' আমরা কখনও ভাবিনি এমন দিন আসবে, যখন হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাবে। তেল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে এমন সঙ্কট দেখব, সেটা আমার ৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় ভাবতে পারিনি।'
তৈরি থাকতে হবে
ভারত এই ধরনের সঙ্কটের জন্য তৈরি ছিলেন না বলে দাবি করলেন ওএনজিসি-এর চেয়ারম্যান। তাঁর মতে, আমাদের তেল এবং গ্যাসের বড় স্টোরেজ থাকা আবশ্যক। তাহলেই সঙ্কটময় পরিস্থিতি তৈরি হলেও লড়াই করা যাবে। পরিস্থিতি সামলে দেওয়া যাবে।
তাঁর কথায়, 'আমরা এমন সমাজে বাস করি, যেখানে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর কঠোর পরিশ্রম শুরু হয়।' আর এই ট্রেন্ডই বদলাতে বললেন তিনি।
তাঁর মতে, এখনই এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। যে কোনও ভাবে দেশে জ্বালানি সম্পর্কে স্টোরেজ সমস্যার করতে হবে সমাধান।
পাশাপাশি অরুণ মনে করেন, জ্বালানির ধরন বৈচিত্র্যময় করতে হবে। মজুত আরও বাড়াতে হবে। তেল-গ্যাস-কয়লার প্রতিটি ফোঁটা বেছে নিতে হবে। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এলএনজি-এর ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা রক্ষা পেয়েছি।
মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে কী দাবি?
তিনি বলেন, 'শুরুর দিকে কাতারের বিনিয়োগ এসেছিল এমন সব সংস্থা থেকে, যারা বিশ্বায়নের বিরোধী ছিল। তবে এখন ইউনিপোলার ওয়ার্ল্ডই বাস্তবতা। এটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে মাথায় রাখতে হবে।'
পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন, এখন মধ্যপ্রাচ্যে কে আর পরিকাঠামো তৈরিতে বিনিয়োগ করবে? কারণ ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পরিকাঠামো ভেঙে গিয়েছে। সেগুলি কাজ করতে পারছে না।
তাই তাঁর পরামর্শ, 'আমাদের আরও এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রতিটি দেশকে তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যা প্রয়োজন তাই করতে হবে।'
মাথায় রাখতে হবে, ইরান যুদ্ধের পর থেকেই হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ ছিল। যার ফলে এলপিজি সঙ্কট বেড়েছে। দেশে রান্নার গ্যাস পেতে সমস্যা পড়তে হচ্ছে। তবে ইতিমধ্যেই ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে। যার ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার রয়েছে আশা।