
দিনটা ২০২৫ সালের ১০ মে। পুরো দমে চলছে অপারেশন সিঁদুর। পাকিস্তানের একের পর এক জঙ্গিঘাঁটি উড়িয়ে দিচ্ছে ভারত। আর ওই দিন সকালেই ডিজিএমও হটলাইনের মাধ্যমে ভারতের কাছ যুদ্ধবিরতি চেয়ে প্রায় হাতেপায়ে ধরে পাকিস্তান। তবে প্রথমেই সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি ভারত। ইচ্ছাকৃতভাবেই দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করানো হয় ইসলামাবাদকে। কারণ, ভারত যেভাবে প্ল্যান করেছিল হামলার, তার অর্ধেক তখনও বাকি ছিল।
একটি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের প্রাক্তন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান বিষয়টা নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি জানান, টার্গেট পুরোপুরি অর্জন করতে চেয়েছিল ভারত। তার আগে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে চায়নি।
অপারেশন সিঁদুরের প্ল্যানিং ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা জেনারেল চৌহানের দাবি, পাকিস্তান মনে করেছিল ভারতের উপর তাদের হামলা সফল হয়েছে। এরপর দিল্লির পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় দ্রুত যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল।
কীভাবে হল যুদ্ধবিরতি?
এই বিষয়টা নিয়েও মুখ খোলেন জেনারেল চৌহান। তিনি জানান, ১০ মে সকালে পাকিস্তান ভারতকে ফোন করে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। সেটাই ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চমক।
তাঁর কথায়, '৯ মে পাকিস্তানের তরফে এমন বক্তব্য আসছিল যে তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতকে শায়েস্তা করে দেবে। কিন্তু তার পরের দিনই তারা যুদ্ধবিরতির জন্য ফোন করল।'
তিনি জানান, ৯ মে রাত থেকে ১০ মে দুপুর পর্যন্ত ভারত পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি ও বিমানঘাঁটিতে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালায়। এই হামলায় পাকিস্তানের হ্যাঙ্গার, রাডার স্টেশন এবং একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জেনারেল চৌহান দাবি করেন, ভারতের হামলার উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া। তাদের কোনও সামরিক ঘাঁটিই ভারতের নাগালের বাইরে নয়, সেটা বুঝিয়ে দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য।
ভারতের আক্রমণে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটি, রহিম ইয়ার খান এবং ভোলারি বিমানঘাঁটিতে এতটাই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল যে এখনও সেখানে মেরামতির কাজ চলছে, এমনটাই দাবি করেন তিনি।
'আমাদের পরিকল্পনার অর্ধেকও শেষ হয়নি'
জেনারেল চৌহান বলেন, 'প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান ফোন করেছিল। তখনও আমাদের পরিকল্পনার অর্ধেকও শেষ হয়নি।'
তাঁর দাবি, পাকিস্তান বুঝতে পেরেছিল যে সংঘর্ষ চলতে থাকলে তারা আরও দ্রুত, আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। সেটা সামাল দেওয়া তাদের পক্ষ কঠিন হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, 'সকাল সাড়ে ৯টায় আমরা যুদ্ধবিরতি মেনে নিইনি। দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়েছি।'
এই প্রসঙ্গে বলি, ২০২৫ সালের ৭ মে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটক নিহত হয়। এই হামলার পিছনে পাকিস্তানের হাত ছিল। এরপরই জবাবে ভারত শুরু করে অপারেশন সিঁদুর। প্রথম দফায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারত।
এর পাল্টা জবাবে পাকিস্তান জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব এবং রাজস্থানের সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করে। তবে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলাই প্রতিহত করে। এরপরই পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায় ভারত।