
ভারতীয় রেলে বালিশ, চাদর, কম্বল সহ বিছানা চুরি রেকর্ড অঙ্কে পৌঁছল। গত ৪ বছরে ট্রেনে ১ কোটি ২৭ লক্ষের বেশি বিছানা চুরি করেছেন যাত্রীরা। সম্প্রতি RTI-এ এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় রেল। এত বিপুল পরিমাণ চুরির জেরে বিপাকে পড়ছেন অ্যাটেন্ডেন্টরা। তাঁদের পারিশ্রমিক বা মাইনে থেকে কাটা যাচ্ছে সেই টাকা।
এসি কোচে প্রতি ১ হাজার যাত্রীর মধ্যে ১ জন করে বিছানা চুরি করেছে
ভারতের একটি প্রথমসারির ইংরেজি সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আরটিআই করেছিল। তার উত্তরে রেল জানিয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সময়কালে রেলে বিছানা চুরি বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। আর্থিক মূল্যে এই ক্ষতির পরিমাণ হল ১০৪.৫১ কোটি টাকার বেশি। যদিও এর থেকেও বেশি হতে পারে ক্ষতির অঙ্ক। কারণ কলকাতা মেট্রো ডিভিশন ও দক্ষিণ উপকূলীয় রেলওয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিদিন রেল AC বগির যাত্রীদের বালিশ, কম্বল, চাদর সহ বিছানা দেয়। দেখা গিয়েছে, এসি কোচে প্রতি ১ হাজার যাত্রীর মধ্যে ১ জন করে বিছানা চুরি করেছে।
রেলের বিছানা চুরির মধ্যে সবচেয়ে বেশি চুরি গিয়েছে তোয়ালে। প্রায় ৪৭ লক্ষ তোয়ালের কোনও হদিশ মেলেনি, প্রায় ৪২ লাখ বিছানার চাদর, ২৪ লাখ মতো বালিশের কভার, প্রায় ১৩ লাখ কম্বল ও আড়াই লাখের বেশি বালিশ চুরি গিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি চুরির ঘটনা ঘটেছে বিকানের ডিভিশনে
আরটিআই-এ আরও জানা গিয়েছে, দেশের মাত্র সাতটি রেল জোনের ১০টি ডিভিশনেই ট্রেনে চুরি হওয়া সুতির সামগ্রীর প্রায় ৬৭ শতাংশের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি চুরির ঘটনা ঘটেছে বিকানের ডিভিশনে, যেখানে ২৫.৭৬ লক্ষ সামগ্রী নিখোঁজ। এর পরেই রয়েছে রাঁচি (৯.৩১ লক্ষ), দিল্লি (৮.২১ লক্ষ), মুম্বই (৮.১৭ লক্ষ), যোধপুর (৮.০৯ লক্ষ), আহমেদাবাদ (৬.৯৪ লক্ষ) এবং দানাপুর (৫.৭২ লক্ষ)। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ডিভিশনের তালিকায় রয়েছে জয়পুর, সোনপুর এবং বিলাসপুরও। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চুরির ধরনও ছিল ভিন্ন। বিকানেরে সবচেয়ে বেশি চুরি হয়েছে বিছানার চাদর, যেখানে ১২.৪২ লক্ষ বেডশিট নিখোঁজ হয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি, রাঁচি, মুম্বই, দানাপুর, আহমেদাবাদ এবং জয়পুরে সবচেয়ে বেশি চুরি হয়েছে তোয়ালে।
সোনপুর এবং বিলাসপুরে সবচেয়ে বেশি চুরি গিয়েছে বালিশের কভার। আর যোধপুরে কম্বলের চুরির ঘটনা সবচেয়ে বেশি, যেখানে ৩.৪ লক্ষেরও বেশি কম্বল নিখোঁজ হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। এই পরিসংখ্যান ভারতীয় রেলের লিনেন ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ভীষণই উদ্বিগ্ন রেল
রেলের এক মুখপাত্র এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, 'সাধারণত যাত্রীরা ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ার পর অ্যাটেনডেন্টরা চাদর, কম্বল, তোয়ালে-সহ অন্যান্য সুতির সামগ্রী সংগ্রহ করেন। ট্রেনের কোচে থাকা এই সব সামগ্রীর হিসাব-নিকাশ এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকে যে সংস্থাকে বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদের উপর। কোনও সামগ্রী কম পাওয়া গেলে বা নিখোঁজ হলে তার আর্থিক ক্ষতিপূরণ সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিল থেকে কেটে নেওয়া হয়। অর্থাৎ,ঘাটতির দায় শেষ পর্যন্ত বহন করতে হয় পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাকেই।'