
নেপালে ভয়াবহ বন্যার জেরে নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয়। প্রাথমিকভাবে অনুমান ১০৫ জনের সন্ধান মিলছে না। বৃহস্পতিবার সকাল নটা নাগাদ তিব্বত সীমান্তের কাছে নেপালের উত্তরাঞ্চলের রাসুয়া জেলায় হড়পা বান আসে। তার জেরে ভেসে যায় বাড়িঘর, গাড়ি, সেতু। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সংখ্যা বাড়তে পারে। এখনও পর্যন্ত ১০৫ জন ভারতীয়র কোনও খোঁজই পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে এই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়তে পারে নেপাল সীমান্তবর্তী বিহারেও। সেই আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে সরকার। নেপাল প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার সকালে তিব্বতের দিক থেকে জল এসে ভোটে কোসি নদীতে প্রবেশ করে। এর ফলে টিমুরে এবং স্যাপ্রু বেসি এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময়ে তিব্বতের গিরিয়ং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাতেও একটি ধস নামে। সেখানে হতাহত ও নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়।
কী কারণে হড়পা বান?
হড়পা বানের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। নেপালের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রাসুয়ায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এই বন্যা। এমন সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে, উপগ্রহচিত্রে তিব্বতের দিকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাতের ছবি ধরা পড়েছে। এখন আবহাওয়াবিদরা দেখছেন, হিমবাহের হ্রদ ভেঙে জল নেমে আসার কারণে এই বিপর্যয় কি না।
উদ্ধারকাজে নামল নেপাল সরকার
বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে নেপাল সরকার। তবে বহু জায়গায় জলের স্তর অত্যন্ত বেশি থাকায় হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব হয়নি। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তিব্বতে নিখোঁজদের খোঁজে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে নজরদারি ও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথাও বলেছেন।
বিহারেও বাড়ল সতর্কতা
নেপালের হড়পা বানের পরিস্থিতি নিয়ে বিহার সরকারও সতর্ক। মুখ্যসচিব প্রত্যয় অমৃত জেলাশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন। গণ্ডক ও কোসি নদী অববাহিকার জেলাগুলিকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাসুয়ার চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার নরেন্দ্র পরিয়ার জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি গ্রাম এবং জায়গা ভেসে গিয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ হিসাব এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রাণহানি ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত টিমুরে বাজার এবং সংলগ্ন কাস্টমস এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাড়ি ও পণ্যসামগ্রী জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি পুলিশ পোস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিব্বত সীমান্তের কাছে টিমুরেতে মোতায়েন থাকা নেপাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের ৯ জন সদস্যও নিখোঁজ বলে জানিয়েছে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে বন্যা, ক্ষয়ক্ষতি এবং উদ্ধার অভিযান পর্যালোচনা করেন। পুলিশ, নেপাল আর্মি এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সকে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে নামানো হয়েছে। সেনার মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, স্যাপ্রু বেসি ও টিমুরেতে জলের স্তর এতটাই বেশি যে হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব হয়নি।
নেপালের পর বিহারে কতটা প্রভাব পড়তে পারে?
বন্যার জল নিচের দিকে ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় প্রবেশ করেছে। এর ফলে নেপালের নুয়াকোট, ধাদিং, গোরখা ও চিতওয়ান জেলায় সতর্কতা জারি হয়েছে। বন্যার আশঙ্কায় কাঠমান্ডু থেকে রাসুয়া, নুয়াকোট, চিতওয়ান ও ধাদিংয়ের দিকে যান চলাচলও বন্ধ এখন। ভোটে কোসি তিব্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ত্রিশূলী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। এই নদী শেষ পর্যন্ত ভারতে প্রবেশ করে গণ্ডক নদী হিসেবে। ফলে নেপালের বন্যার জল ক্রমশ নিচের দিকে নামার সঙ্গে সঙ্গে বিহারের গণ্ডক অববাহিকার এলাকাগুলিতেও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।