Advertisement

ভারত সীমান্তে পাকিস্তানের শক্তিবৃদ্ধি, চিনের ২৫০ অত্যাধুনিক হাউইটজার মোতায়েন

এটি সাধারণ ১৫৫ মিমি ন্যাটো গোলা ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত এবং রকেট-সহায়ক VLAP প্রজেক্টাইল ৫৩ থেকে ৭২ কিলোমিটার পর্যন্ত নিক্ষেপ করতে পারে। এতে স্বয়ংক্রিয় ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম ও হাইড্রোলিক স্পেড রয়েছে।

(Screengrab: X/@Kunal_Biswas707)(Screengrab: X/@Kunal_Biswas707)
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 02 Aug 2026,
  • अपडेटेड 9:11 PM IST
  • অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তান তাদের সামরিক ঘাটতি পূরণের দিকে বিশেষ জোর দিয়েছে
  • এতদিন তাদের আর্টিলারির গতিশীলতা এবং দীর্ঘ-পাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা ছিল

পাকিস্তান সম্প্রতি চিনের কাছ থেকে ২৫০টি SH-15 ১৫৫ মিমি ট্রাক-মাউন্টেড সেল্ফ-প্রোপেল্ড আর্টিলারি সিস্টেম সংগ্রহ করেছে। ইতিমধ্যেই ভারত সীমান্তে ধাপে ধাপে এই অত্যাধুনিক হাউইটজার মোতায়েন শুরু করেছে ইসলামাবাদ। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই উচ্চ-গতির আর্টিলারি সিস্টেম বসানো হচ্ছে।

অপারেশন সিঁদুরের পর পর থেকে এই পদক্ষেপ শুরু করেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের তিন বাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে থাকা জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করা হয়। ওই অভিযানে পাকিস্তানের আর্টিলারি সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। এরপর থেকেই নিজেদের স্থলযুদ্ধের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক SH-15 সিস্টেমকে অগ্রাধিকার দিয়েছে রাওয়ালপিন্ডি। 

SH-15 তৈরি করেছে চিনের সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা NORINCO। এটি চিনা সেনাবাহিনীর PCL-181-এর রফতানি সংস্করণ। ১৫৫ মিমি/৫২ ক্যালিবারের এই হুইলড সেল্ফ-প্রোপেল্ড হাউইটজারটি ৬×৬ সাঁজোয়া শানসি ট্রাক চেসিসের উপর বসানো। রাস্তায় এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৯০ কিলোমিটার। অফ-রোড এলাকাতেও এটি দ্রুত অবস্থান বদলাতে সক্ষম।

এটি সাধারণ ১৫৫ মিমি ন্যাটো গোলা ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত এবং রকেট-সহায়ক VLAP প্রজেক্টাইল ৫৩ থেকে ৭২ কিলোমিটার পর্যন্ত নিক্ষেপ করতে পারে। এতে স্বয়ংক্রিয় ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম ও হাইড্রোলিক স্পেড রয়েছে। খুব অল্প সময়ে মোতায়েন করা যায় এবং প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ৬টি গোলা ছোড়া সম্ভব। কাউন্টার-ব্যাটারি রাডার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করার আগেই এটি দ্রুত স্থান পরিবর্তন করতে পারে। ফলে প্রচলিত টোড আর্টিলারির তুলনায় এটি অনেক বেশি কার্যকর। পাকিস্তানের পাহাড়ি ও সমতল- উভয় ধরনের ভূখণ্ডেই এর ব্যবহারযোগ্যতা বেশি।

অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তান তাদের সামরিক ঘাটতি পূরণের দিকে বিশেষ জোর দিয়েছে। এতদিন তাদের আর্টিলারির গতিশীলতা এবং দীর্ঘ-পাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা ছিল। SH-15 যুক্ত হওয়ায় তারা এখন উচ্চ-গতির ও দীর্ঘ-পাল্লার আর্টিলারি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। এই সিস্টেম শুধু প্রতিরক্ষাই নয়, আক্রমণাত্মক ক্ষমতাও বাড়ায়। এর আগে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণরেখার কাছেও কিছু SH-15 মোতায়েন করেছিল এবং ২০২৫ সালের সংঘর্ষে সেগুলি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। নতুন ২৫০টি সিস্টেম পাওয়ায় একাধিক আর্টিলারি রেজিমেন্ট আরও শক্তিশালী হবে।

Advertisement

এই পদক্ষেপ চিন-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করছে। দুই দেশ যৌথ সামরিক মহড়াও বাড়াচ্ছে, যেখানে আন্তঃবাহিনী সমন্বয়  নেটওয়ার্কভিত্তিক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং যৌথ যুদ্ধকৌশলের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের জন্য SH-15 বিশেষ চ্যালেঞ্জ, কারণ এর 'শুট অ্যান্ড স্কুট' ক্ষমতা কাউন্টার-ব্যাটারি হামলাকে কঠিন করে তোলে। ভারতের কাছে K-9 বজ্রর মতো অত্যাধুনিক আর্টিলারি রয়েছে, যা ট্র্যাকড এবং বেশি সুরক্ষিত বলে মনে করা হয়। তবে পাকিস্তানের হুইলড প্ল্যাটফর্ম দ্রুত গতিশীলতার সুবিধা দেয়। দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ সীমান্ত পরিস্থিতিতে এত বড় মাত্রায় আর্টিলারি মোতায়েন ছোটখাটো ঘটনাকেও বড় সংঘর্ষে রূপ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চিনের সমর্থনে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে আধুনিক অস্ত্র পাচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে ভারতকে নিজেদের আর্টিলারি আধুনিকীকরণ আরও দ্রুত করতে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করতে হতে পারে।

Read more!
Advertisement
Advertisement