
Pulwama Attack Mastermind Killed: প্রতিবেশীর ঘরে ঢুকে শত্রু খতমের এই খেলা বোধহয় একেই বলে! পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক ভারত-বিরোধী কুখ্যাত জঙ্গির রহস্যমৃত্যু যেন এখন রোজকার ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই পুরো অপারেশনের নেপথ্যে রয়েছে এক ‘অদৃশ্য হাত’ কিংবা ‘অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজ’ (Unknown Gunmen)। যার ভয়ে এখন থরথর করে কাঁপছে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলো। এই তালিকার একেবারে টাটকা সংযোজন হলো ২০১৯ সালের পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার অন্যতম মূল চক্রান্তকারী হামজা বুরহান।
রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) মুজফফরাবাদে খতম করা হয়েছে এই কুখ্যাত জঙ্গিকে। নিজের ডেরায়, অর্থাৎ খোদ অফিসে বসে থাকার সময়ই অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হামজার। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ (CRPF) কনভয়ে যে আত্মঘাতী জঙ্গি হানা হয়েছিল, যেখানে দেশের ৪০ জনেরও বেশি বীর জওয়ান শহীদ হয়েছিলেন, তার অন্যতম প্রধান মাস্টারমাইন্ড ছিল এই হামজা বুরহান। তবে হামজাই প্রথম নয়, গত ৫ বছরে পাকিস্তানের নিরাপদ আশ্রয়ে লুকিয়ে থাকা অন্তত ২৬ জন বড় মাপের জঙ্গির এভাবেই ‘টার্গেট কিলিং’ বা রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
নিরাপদ আশ্রয়ে ঢুকে ভারত-বিরোধীদের নিকেশ করার এই ধারা বেশ কয়েকমাস ধরেই চলছে। যেমন ২০২৪ সালের মার্চ মাসে পেশোয়ারে নিকেশ করা হয় মেজর দানিয়ালকে। ২০১৬ সালের বারামুলা হামলায় ভারতীয় সেনার কনভয়ে আক্রমণের পিছনে জঙ্গিদের মদত দেওয়ার মূল অভিযোগ ছিল এই দানিয়ালের বিরুদ্ধে। এর আগে ঝিলাম জেলায় গুলি করে খতম করা হয় লস্কর প্রধান হাফিজ সঈদের ভাইপো তথা রিয়াসি জঙ্গি হামলার মূল হোতা ফয়সল নদীম ওরফে আবু কতালকে। ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা NIA-র ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় জলজল করত এই আবু কতালের নাম।
পিছিয়ে নেই করাচি বা শিয়ালকোটের মতো শহরও। ২০২৩-এর ডিসেম্বরে করাচিতে খতম হয় হাফিজ সঈদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা পাম্পোরে সিআরপিএফ কনভয়ে হামলার মূল চক্রী আদনান আহমেদ। তার ঠিক দু’মাস আগে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে শিয়ালকোটে জঘন্যভাবে খুন করা হয় ২০১৬ সালের পাঠানকোট এয়ারবেস হামলার মাস্টারমাইন্ড তথা জইশ-ই-মহম্মদ কমান্ডার শাহিদ লতিফকে। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে করাচিতে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় মৌলানা রহিমুল্লাহ তারিককে। কুখ্যাত জঙ্গি মাসুদ আজহারের এই ডানহাতটি দিনরাত ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করত।
একই বছরের ১০ নভেম্বর নিকেশ করা হয় লস্কর-ই-তৈবার প্রাক্তন কমান্ডার আকরাম গাজিকে, যে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নতুন জঙ্গি রিক্রুটমেন্ট বা দল ভারী করার কাজ সামলাত। এর ঠিক চার দিন আগে, অর্থাৎ ৬ নভেম্বর পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর থেকে উদ্ধার হয় জম্মুর সুঞ্জওয়ান আর্মি ক্যাম্পে হামলার মূল চক্রান্তকারী খাজা শাহিদের মুণ্ডহীন মৃতদেহ।
পরপর এই হাই-প্রোফাইল খুনের পর এখন পাকিস্তানের অন্দরে ‘সিক্রেট কিলার’ বা ‘অজ্ঞাতপরিচয় ঘাতক’দের নিয়ে তীব্র আতঙ্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। কারা এই বন্দুকবাজ? কোথা থেকে আসে তারা? বহু মামলা পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত এই হামলাকারীদের কোনও পরিচয় সামনে আনেনি পাকিস্তানি পুলিশ। এমনকি বিশ্বের কোনও গুপ্তচর সংস্থা বা সংগঠনও আজ পর্যন্ত এই সমস্ত নিখুঁত ‘ক্লিন অপারেশন’-এর দায় স্বীকার করেনি। সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের মাটিতে লুকিয়ে থাকা ভারতের শত্রুদের ডানা ছেঁটে দেওয়ার এই রহস্যময় খেলা এখন আন্তর্জাতিক মহলে সাড়া ফেলে দিয়েছে।