
দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। এই পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে ভুয়ো খবর ও বিভ্রান্তিকর ভিডিয়ো ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ। এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং অশান্তি উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক দিল্লি পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।
রাহুল গান্ধী আহত, পুলিশের গুলি চালানোর ভুয়ো দাবি
সূত্রের দাবি, কংগ্রেসের বিক্ষোভ চলাকালীন সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যে রাহুল গান্ধী আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছে বলেও দাবি করা হয়। অভিযোগ, এই ধরনের দাবি ছড়ানো একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।
১৩ জনের মৃত্যুর ভুয়ো খবর ছড়ানোর অভিযোগ
এর আগে, ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালীন ১৩ জনের মৃত্যুর খবরও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ। ওই দাবির সঙ্গে ভুয়ো ভিডিয়োও ছড়ানো হয় বলে জানা গিয়েছে। পাকিস্তান-সহ বিদেশ থেকে পরিচালিত একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট, ভুয়ো খবর এবং বিভ্রান্তিকর ভিডিয়ো ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের পোস্টের মাধ্যমে রাজধানীর পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভুয়ো খবর ছড়ানো অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করার দাবি পুলিশের
সূত্রের খবর, ভুয়ো খবর ও বিভ্রান্তিকর ভিডিয়ো ছড়ানোর অভিযোগে কয়েকটি পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করেছে দিল্লি পুলিশ। ওই অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। একে একে চিহ্নিত অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পাশাপাশি, দিল্লি পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সমাজমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন পোস্টের উপর নজর রাখছে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ISI-যোগের অভিযোগ ঘিরে নজরদারি
কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এই যোগসূত্রের বিষয়ে চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। দিল্লিতে SIR এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিক্ষোভের আবহে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো তথ্যের সত্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হতাহতের খবর, পুলিশের পদক্ষেপ কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের আহত হওয়ার মতো দাবি যাচাই না করে শেয়ার করলে বিভ্রান্তি আরও বাড়তে পারে।