
শীতকালীন অধিবেশনের আগে বৈঠকে বসল বিরোধীরা। কিন্তু সেই বৈঠকে যোগ দিলেন না তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধি। মহারাষ্ট্র-হরিয়ানায় কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর যা তাৎপর্যপূর্ণ বলেও মত ওয়াকিবহাল মহলের। আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতারি পরোয়ানা, মণিপুরে হিংসা, সম্ভলপুরে জামা মসজিদকে কেন্দ্র করে অশান্তির মতো ইস্যু রয়েছে বিরোধীদের হাতে। সেই সব ইস্যুতে সরকারকে ঘিরে ফেলতেই বৈঠক ডাকা।
শীতকালীন অধিবেশনের রণকৌশল সাজাতে বৈঠকে বসেছিলেন ইন্ডি জোটের নেতানেত্রীরা। কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের নেতৃত্বে চলে ওই বৈঠক। শীতকালীন অধিবেশনে কোন কোন ইস্যুতে সরকারকে চেপে ধরা হবে, সেনিয়েই আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল বৈঠক, যাতে বিরোধীরা কক্ষ সমন্বয় করতে পারে। বৈঠকে হাজির ছিলেন ১৩ দলের প্রতিনিধিরা। তবে তৃণমূলের কেউ যাননি।
বৈঠকে গরহাজিরা নিয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে তৃণমূল সূত্রের খবর, সোমবার বিকেলে কালীঘাটে রয়েছে দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক। তাতে যোগ দেবেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন। ওই বৈঠকের কারণেই সম্ভবত কেউ বিরোধী দলের বৈঠকে যোগ দেননি। উল্লেখ্য, সোমবার কর্মসমিতির বৈঠকে আগামী দিশা নির্দেশ করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোন কৌশলে সংসদে সরকারপক্ষকে চেপে ধরা হবে, সে ব্যাপারে তিনি যথাবিহিত পরামর্শ দেবেন বলে শোনা যাচ্ছে।
লোকসভা ভোটের পর ৪ রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে লোকসভায় এগিয়ে থাকলেও পর্যুদস্ত হয়েছে বিরোধীরা। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের মতো বড় রাজ্যে বিরোধীরা ন্যূনতম লড়াই দিতে পারেনি। বাকি জম্মু-কাশ্মীর ও ঝাড়খণ্ডে আঞ্চলিক দলের সঙ্গে জোট ছিল কংগ্রেসের। এমতাবস্থায় বিরোধী জোটে কংগ্রেসের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্বের ভার দেওয়া হোক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,'কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দল যখন পিছিয়ে পড়ছে, তখন ইগো ছাড়া উচিত। ইন্ডি জোটের নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে আনা হোক'।