
সোমবার থেকে সংসদে শুরু হচ্ছে বাদল অধিবেশন। তার আগে প্রথা অনুযায়ী আজ সর্বদল বৈঠক ডেকেছে সরকার। সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয় NCPI-কেও। আর এই নিয়েই টানটান নাটকের সাক্ষী রইল সংসদ। এদিন NCPI-এর যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সর্বদলীয় বৈঠক ছেড়ে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের নেতানেত্রীরা। যদিও পরে ফের তাঁরা কিছুক্ষণের মধ্যেই বৈঠকে যোগ দেন।
জানা গিয়েছে, লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহীদের গতকালই চিঠি পাঠিয়েছেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তবে, লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা এখনও এই বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন দল এনসিপিআই-কে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেননি।
এক্ষেত্রে বিরোধীদের যুক্তি হল, স্পিকার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের স্বীকৃতি দেননি, তাহলে তাঁদের স্বীকৃতি ছাড়াই কীভাবে এই সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হল? বিদ্রোহী সাংসদরা দাবি করেন, তাঁদের যেন মূল তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে বসানো না হয়। পরে এই দাবি মেনে নিয়ে তাঁদের জন্য আলাদা বেঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়।
বাদল অধিবেশনে সরকারের কর্মসূচি ও বিরোধী দলের কৌশলে নজর
এই বর্ষাকালীন অধিবেশনে সরকারের আলোচ্যসূচি মূলত বিভিন্ন বিলকে কেন্দ্র করে। সরকার নতুন আঙ্গিকে ডিলিমিটেশন বিল, নারী সংরক্ষণ বিল এবং প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের অপসারণের প্রস্তাবিত বিল নিয়ে আলোচনা করতে চায়। এদিকে, বিরোধী দল একাধিক ক্ষেত্রে সরকারকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, বিরোধী সাংসদরা সংসদে E-20 বিতর্ক, মুদ্রাস্ফীতি, বিদেশ নীতি এবং দুর্নীতির মতো বিষয়গুলো উত্থাপন করতে পারে।
এদিন সভা শুরুর আগে কিরেন রিজিজু বর্ষাকালীন অধিবেশন প্রসঙ্গে বিরোধী দলগুলির উদ্দেশে বলেন, "আগামীকাল থেকে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সরকার আজ সব দলের নেতাদের একটি বৈঠক ডেকেছে। আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে এই বর্ষাকালীন অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অবদান ও সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি। সংসদ সবার; আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ এবং সরকারের আনা বিলগুলোর বিষয়ে আমি আশা করি শাসক দল ও সকল বিরোধী দলের সদস্যরা অংশগ্রহণ করবেন।"
রিজিজু আরও বলেন যে, সংসদ যত ভালোভাবে কাজ করবে, দেশের তত বেশি কল্যাণ হবে। "আমি আবারও সকল দলের নেতাদের কাছে সংসদের সুষ্ঠু কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এবং এই প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার জন্য আবেদন জানাচ্ছি। আমরা বিরোধী দলের কথা শুনব এবং আশা করি তারাও আমাদের কথা শুনবে।"