
বৃহস্পতিবার নিজের মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা ধরে চলে এই বৈঠক। আর সেখানে দেশের অগ্রগতি থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের কাজের খতিয়ান সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা যাচ্ছে।
এই বৈঠকটি বিকেল ৫টায় দিল্লির সেবা তীর্থতে শুরু হয়। এটা চলে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা। সকল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্তরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এটাই ছিল চলতি বছরের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠক। আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে তৃতীয় নরেন্দ্র মোদী সরকারের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতেই এই বৈঠক হল।
কেন মিটিং ডাকা হয়?
সূত্রের খবর, সরকারের কাজ পর্যালোচনার জন্যই মূলত এই মিটিংটা ডাকা হয়। চলতি বছরে কোন মন্ত্রী কেমন কাজ করেছেন, কোথায় কী উন্নতি হয়েছে, কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার প্রতিফলন কী দেখা গিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের অ্যাকশন নেওয়া হবে, সেই সব নিয়েই চলেছে আলোচনা।
৯টি মন্ত্রক প্রেজেন্টেশন দেন
এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার ৯ মন্ত্রক প্রেজেন্টেশন দেয় বলে জানা গিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রক প্রথম প্রেজেন্টেশন দিতে শুরু করে। তারপর একে একে পেট্রোলিয়াম, স্বরাষ্ট্র, অর্থ এবং বিদেশ মন্ত্রক প্রেজেন্টেশন দেয়।
এর আগে মন্ত্রকগুলিকে তাদের সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলিকে চারটি ভাগে ভাগ করতে বলা হয়েছিল। প্রথমত, আইনের পরিবর্তন; দ্বিতীয়ত, বিধি বা নিয়মের পরিবর্তন; তৃতীয়ত, নীতিগত পরিবর্তন এবং চতুর্থত, কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন। পাশাপাশি, এই পরিবর্তনগুলির ফলে সাধারণ মানুষের উপর কী প্রভাব পড়েছে, তাও ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছিল।
মন্ত্রীদের কী বলেন মোদী?
এই বৈঠকে নরেন্দ্র মোদী ২০৪৭ সালের লক্ষ্যকে মাথায় রেখেই কাজ করতে বলেন। তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য হল ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করা। সেই মতো কাজ করতে হবে। সেই মতো দেশের সাধারণ নাগরিকের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে হবে। এমনকী নীতিতে আনতে হবে বদল। পাশাপাশি সরকারের প্রকল্প থেকে শুরু করে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের প্রোজেক্টের বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট নিয়েও কথা হয়
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি। তার প্রভাব পড়ছে ভারতের অর্থনীতিতেও। আর বৈঠকে এই বিষয়টা নিয়েও কথা হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজের মন্ত্রীদের আবেদন করেন যাতে সাধারণ মানুষের উপর এই যুদ্ধের প্রভাব কম পড়ে, সেটা নিশ্চিত করতে। বিশেষত, শক্তি, কৃষি, সাড়, বিমান, জাহাজ এবং লজিস্টিকের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন তিনি।
এছাড়া এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দেশের সফরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও সকলকে জানান বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।