
সোমবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লি রাজনৈতিক কচকচানি নয়, সাক্ষী থাকল বিরল সৌজন্যের। সংসদের অন্দরে কিংবা বাইরে, দিনরাত, নানা ইস্যুতে সাপে-নেউলের মতো ঝগড়ারত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সকলকেই দেখা গেল মন খুলে হাসতে, একে অপরের খোঁজ নিতে। হলটা কী হঠাৎ?
আসলে এটা ছিল সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান। যেখানে রাজনীতি ছিল ব্যাকফুটে। শাসক-বিরোধী শিবিরের কে না ছিলেন সেখানে! তারকার হাট বসেছিল NCP(SP) সাংসদের আমন্ত্রণে। উপস্থিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। আমন্ত্রণ রক্ষা করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সনিয়া গান্ধী আসেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে। সেখানে তাঁদের সকলকেই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে দেখা যায়।
সেই সন্ধ্যার একাধিক ছবি-ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তার মাঝেই ছড়িয়ে পড়েছে একটি পুরনো ভিডিও।যেখানে এক ফ্রেমে ধরা পড়েন মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। জানা যাচ্ছে, ওই ভিডিওটি কয়েক মাস আগের। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসেন নরেন্দ্র মোদী। জিজ্ঞাসা করেন, 'প্রিয়াঙ্কা কেমন আছো?' জবাবে সনিয়া কন্যা বলেন, 'আমি ভাল আছি স্যর, আপনি কেমন আছেন?'
পুরনো ওই ভিডিওতে প্রিয়াঙ্কাকে দেখা না গেলেও তাঁর গলা শোনা গিয়েছে। বোঝা গিয়েছে তিনি ক্যামেরার উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রিয়াঙ্কার প্রশ্নের জবাব নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'আমি তো যেমনটা ছিলাম, তেমনটাই আছি।' পাশেই ছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। হেসে হেসে তিনি বলেন, 'ভাইসাব, আপনি তো কিছুটা বদলে গিয়েছেন।' এরপরই উপস্থিত সকলে হাসিতে ফেটে পড়েন। মোদী বলেন, 'তাই নাকি?' রাহুল গান্ধীকেও দেখা যায় সে সময়ে মোদীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাসিতে ফেটে পড়তে।
এই ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্য ডিকোড করতে বসে পড়েছেন। দিল্লিতে Gez Z আন্দোলনের পর থেকে একের পর এক সেলফি ভিডিও করেছেন মোদী। হয়তো এই বদলে যাওয়া অভ্যাসের জন্যই খাড়গে তাঁকে মজা করে ওই কথা বলেন। কারও মত এমনটাই। যদিও ভিডিওটি সুপ্রিয়া সুলের মেয়ের বিয়ের নয় বলেই দাবি একাংশের। এটি কয়েকমাস পুরনো অন্য একটি অনুষ্ঠানের ভিডিও।
রেবতী সুলের বিয়ের এই আসর বসেছিল ৬ নম্বর জনপথ, শরদ পাওয়ারের বাসভবনে। যেখানে শরদ পাওয়ারের সঙ্গেও গল্প করতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। শরদ পাওয়ারপন্থী NCP ও BJP-র সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়েও নানা জল্পনা রটেছিল। যদিও সুপ্রিয়া সুলে জানিয়েছেন, যা কিছু কথাবার্তা হয়েছে সবটাই মহারাষ্ট্রের উন্নয়নের স্বার্থে।