
বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল নিয়ে বক্তব্য রাখলেন নরেন্দ্র মোদী। বক্তব্যের শুরুতে সকল বিরোধীদের এই বিলের স্বপক্ষে এগিয়ে আসার বার্তা দেন নমো। তিনি বলেন, "আমরা সকলে ভাগ্যবান, কারণ আমরা দেশের এই নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অংশ হতে পারছি। এটা আমাদের সকল সাংসদদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়।"
নরেন্দ্র মোদী এদিন বলেন, "আমরা সাংসদরা মিলে দেশকে নতুন দিশা দেখাতে যাচ্ছি। এই সংশোধনী বিল দেশের দিশা বদলে দেবে। একবিংশ শতকে ভারত নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন ভারত বিকশিত ভারত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। বিকশিত ভারত শুধুমাত্র রেল বা রাস্তা তৈরি করা নয়, এটা মানুষের মনের মধ্যে নিহিত থাকতে হবে। দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ নীতি-নির্ধারণের মধ্যে আসুক, এটাই সময়ের চাহিদা।"
মহিলারা ক্ষমা করবেন না, বলে হুঁশিয়ারি মোদীর
বিরোধীদের পরামর্শ দিয়ে মোদী বলেন, "ইতিহাস সাক্ষী আমাদের দেশে যখন যখন মহিলা সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যারা এই অধিকারের বিরোধিতা করেছে। দেশের মহিলারা তাঁদের ক্ষমা করেনি। তাঁদের হাল খারাপ থেকে খারাপতর হয়েছে। কিন্তু ২০২৪-এ সবাই এটা সমর্থন করেছিল, তাই কারও কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তখন সবাই একসঙ্গে ছিল। এটা দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে যাবে।"
প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, "গত ২৫-৩০ বছরে একেবারে তৃণমূলী স্তরে মহিলাদের রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হয়েছে। হাজার হাজার মহিলা গত কয়েক দশকে পঞ্চায়েত স্তরে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কাজ করেছেন। আগে তাঁরা বলতেন না, এখন তাঁরা সুর চড়িয়ে বলবেন। এখন যারা এই বিলের বিরোধিতা করবেন, তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে এর ফল ভুগবেন।"
মোদী বলেন, "আমাদের মনে রাখতে হবে, মহিলাদের অধিকার রয়েছে নির্ণায়ক ভূমিকায় অংশ নেওয়ার। গত কয়েক দশক ধরে অন্যায় ভাবে তাঁদের আটকে রাখা হয়েছিল। আমরা সেই অধিকার সুরক্ষিত করছি।"
প্রধানমন্ত্রী সংসদে প্রশ্ন করেন, "আমরা কেন তাঁদের জুড়তে দিতে চাইছি না। এটাকে রাজনীতি হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটা দেশের ভালোর জন্য নেওয়া একটা পদক্ষেপ। এটা আমাদের জন্য সুযোগ, যা বিকশিত ভারত গড়তে মহিলাদের অংশ নিতে সহায়ক হবে। আজ পুরো দেশ, বিশেষ করে নারী শক্তি- আমাদের নির্ণয় ও সদিচ্ছা দেখবে।"