
নিট ইউজি প্রশ্নফাঁস নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। দোষীদের শাস্তি দিতে ফাস্টট্র্যাক কোর্ট গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আজ সকালেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টা সম্পর্কে খোলসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, 'প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্টট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট দফতর ও আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পড়ুয়াদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমাদের ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'
পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যারা দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চায়, তাদের কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।
তবে এই মোদীর এই টুইটের পাল্টা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন,
'আপনিই দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন। আপনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস হতে দিয়েছেন। তার জন্য উৎসাহিত করেছেন। আর এই অবস্থার জন্য যারা দায়ী, তাঁদেরও রক্ষা করেছেন।
পড়ুয়াদের দাবিগুলি স্পষ্ট—
১. ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে।
২. পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. যারা পড়ুয়াদের উপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।'
এর আগেও নিট নিয়ে বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য উত্তপ্ত দিল্লি। যন্ত্রর মন্তরে চলছে বিক্ষোভ। দাবি উঠছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের। আর এই ইস্যুতেই সম্প্রতি এনডিএ বৈঠকে সাংসদদের সামনে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির পক্ষে সওয়াল করেছিলেন তিনি বলে জানা যায়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা রোখার দায়িত্ব সমগ্র দেশের।
ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঠিক কী বলেন, তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য় দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজুজু। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে একযোগে একটি নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেছেন। তিনি চান যাতে ভবিষ্যতে কোনও পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা না ঘটে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, অপরাধীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। মিলবে যোগ্য শাস্তি।
এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নফাঁস নিয়ে রাজনীতির বিষয়টাও তুলে ধরেন বলে নিজের বক্তব্যে বলে জানান রিজুজু। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করছেন কেউ কেউ প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাজনীতি করছেন। পড়ুয়াদের স্বার্থে সুরক্ষায় কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
নিট নিয়ে চলছেটা কী?
আসলে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরই ময়দানে অন্দোলনে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি। প্রথম অনশন। তারপর সংসদ অভিযানের ডাক। আর সেই অভিযান নিয়ে পড়ুয়া ও পুলিশের সংঘর্ষ। সব মিলিয়ে এখনও দিল্লির পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। আন্দোলনকারীরা এখনও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড়। ওদিকে কেন্দ্রীয় সরকার এখনও এই দাবি মানতে নারাজ। যার ফলে বরফ গলছে না।