
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বেনজির আক্রমণ ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের। তাঁর কটাক্ষ, দেশের প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে তাঁর বরং ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া উচিত। NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে হওয়া আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ছাত্রদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর সোশ্যাল মিডিয়া বার্তাকে বিদ্রূপ করেই এই মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর নিজের মহারাষ্ট্রের বাড়িতে ফিরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন দিপকে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের দায়িত্ব সামলানোর বদলে নরেন্দ্র মোদী যেন সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশি স্বচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তাঁর কথায়, 'আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রী মোদীর এখন ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া উচিত। ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে তিনি ভালো কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে অন্য কোনও নেতাকে দেশের দায়িত্ব নিতে দেওয়া উচিত।'
আন্দোলনকারীদের হয়রানির অভিযোগ
CJP-র প্রতিষ্ঠাতার অভিযোগ, আন্দোলন প্রত্যাহার হওয়ার পরও বিভিন্ন রাজ্যের সরকার আন্দোলনকারী ছাত্রদের খুঁজে বের করে হয়রানি করছে। তাঁর কথায়, 'CJP-র আন্দোলন তুলে নেওয়ার পর বিভিন্ন রাজ্যের সরকার আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করে হয়রানি করছে। সরকার অবিলম্বে এই হয়রানি বন্ধ করুক। না হলে আগামী নির্বাচনে আন্দোলনকারীরাই এর জবাব দেবে।'
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে ক্ষোভ কমেনি
দিপকের দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ হলেও আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ কমেনি। তিনি জানান, 'শুধু একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগে আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ থেমে যায়নি। মানুষের ক্ষোভ ছিল গোটা সরকারের বিরুদ্ধে। যুব সমাজের ক্ষোভ বিজেপি কেন বুঝতে পারছে না?'
ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
দিপকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্দোলন শেষ হলেও এই লড়াই শেষ হয়নি। ছাত্ররা দেশের ভবিষ্যৎ। সেই কারণে তাঁদের উপর অত্যাচার করা যাবে না। তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, 'ধর্মেন্দ্র প্রধানকে যেভাবে পদত্যাগ করানো হয়েছে, তেমনই প্রয়োজনে সরকারও বদলে দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আগামী আন্দোলন আরও বড় পরিসরে হবে।'
পেলেট গান ব্যবহারের তদন্তের দাবি
দিল্লির যন্তর মন্তরে CJP-র আন্দোলনের সময় ছাত্রদের ওপর পেলেট গান ব্যবহারের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান দিপকে। তিনি বলেন, 'অমিত শাহ হোন বা অন্য কেউ, যিনি পেলেট গান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।'
ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন
প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের প্রতিশ্রুতিরও সমালোচনা করেন CJP প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, 'তিন দিন আগে প্রধানমন্ত্রী ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মানুষ খুশি হয়েছিল। কিন্তু প্রথম শুনানিতেই CBI-র আইনজীবী হাজির না থাকায় মামলার শুনানি পিছিয়ে গেল।'