
সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে কারও নাম না করে পাকিস্তানের কড়া সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার তিনি ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। করোনা মহামারীর জন্য ভার্চুয়ালি এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিয়মে বদল আনার কথাও তুলেছেন।
সফলভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। মোদী বলেন, 'ভারতের সংস্কৃতিতে সারা দুনিয়াকে একটা পরিবার হিসেবে ধরা হয়। শান্তির জন্য সারা পৃথিবীতে ভারত থেকে সবথেকে বেশি সেনা প্রাণ দিয়েছেন।'
প্রধানমন্ত্রী ওই সম্মেলনে বলেন, গ্লোবাল গভর্ন্যান্সের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কার্যকারিতা দুটোর উপর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর মধ্যে কোন বদল না আসা। এগুলো এখনও ৭৫ সালের পুরনো মানসিকতা আর ভাবনাচিন্তার ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভারত মনে করে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে বদলা আনা দরকার এবং সেটা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। আর এ ব্যাপারে ব্রিকসের যারা সদস্য রয়েছে, তাদের সহযোগিতা চাই আমরা।
তার মতে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের মতো আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থাও বর্তমানের বাস্তবোচিত পরিস্থিতিতে না দাঁড়িয়ে কাজ করছে। ডব্লুটিও, আইএমএফ, ডব্লুএইচও-র মতো সংস্থাগুলোর কাজকর্ম পরিচালনায় কিছু সংশোধন আনা দরকার।
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছেন, আতঙ্কবাদ আজ বিশ্বের সামনে সবথেকে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের সুনিশ্চিত করতে হবে সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থন করে, সাহায্য করে যেসব দেশ, সেই দেশগুলোকেও সমান ভাবে দোষী সাব্যস্ত করতে হবে। আর সংঘটিত উপায়ে এই সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে। আমি খুশি কাউন্টার টেরিরজমের অন্তিম রূপ তৈরি হয়েছে। এটা একটা বড় পাওনা। পরের বার ভারত যখন এই সম্মেলনের আয়োজন হবে, তখন তা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
তিনি বলেন, কোভিড মহামারীর সময়ে বিশ্বের অর্থনীতি চাকা ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ব্রিকসের অর্থনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। আমাদের মধ্যে পৃথিবীর ৪২ শতাংশের বেশি জনসংখ্যার মানুষ রয়েছেন। বিশ্ব অর্থনীতির মূল ইঞ্জিন ভারতের। ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে ব্যবসা বাড়ানোর আরও অনেক সুযোগ রয়েছে। আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পে আমাদের দেশে এক সংস্কার শুরু হয়েছে। আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্প কোভিড পরবর্তী সময়ে অর্থব্যবস্থার জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে চলেছে। দুনিয়ার অর্থব্যবস্থা পাল্টাতে এক মজবুত যোগদান দিতে পারে চলেছে ভারত।
তিনি বলেন, কোভিডের সময়ও আমরা তা দেখতে পেরেছি। ভারতীয় ওষুধ সংস্থাগুলির উৎপাদন ক্ষমতার কারণে আমরা দেড়শোর বেশি দেশে অত্যাবশ্যক ওষুধ পাঠাতে পেরেছি। টিকা তৈরীর কাজ আর সরবরাহ ক্ষমতা মানবতার কাজেই লাগানো হবে।
তিনি বলেন, ২০২১ সালে ব্রিকসের ১৫তম বর্ষপুর্তি হবে। বিগত সময়ে যেস ব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার মূল্যায়ন করার জন্য আমাদের সেরপা একটা রিপোর্ট বানাতে পারে।
ওই সম্মেলনে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভারতের সহযোগিতায় তৈরি হতে চলা করোনা টিকার ব্যাপারে উল্লেখ করেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার এই কাজে ভারতের সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে। আমরা উৎপাদন আরও বাড়ানোর জন্য হাত মিলিয়ে কাজ করব। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া দ্বিতীয় টিকাও ইতিমধ্যে নথিভুক্ত করেছে। আর তৃতীয়টি পাইপলাইনে রয়েছে।