
দেশের শাসক পরিবর্তন হোক। শুক্রবার এই দাবিতে সরব হলেন অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন ভারতে শাসক পরিবর্তন করতে হবে নির্বাচনের মাধ্যমে। সেটা সাংবিধানিক পথেই হতে হবে। অন্য কোনওভাবে নয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গণবিক্ষোভের জেরে বাংলাদেশ ও নেপালে সরকার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'ভারতের পরিস্থিতি আলাদা।'
প্রকাশ রাজের বক্তব্য, 'আমরা চাই এই শাসকের পতন হোক। আর আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই সেই পরিবর্তন আনব।' ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরপ্রদেশ থেকে লড়াই শুরু করার কথাও জানান তিনি।
তাঁর কথায়, 'আমরা নেপাল নই, আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন, গান্ধী আছেন, ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোটাধিকার আছে।'
শুক্রবার দিল্লিতে প্রস্তাবিত তেরঙা মিছিলের আগে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করা হয়। তারপরই এহেন মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি জানিয়ে দেন, ভারত নিজের মতো করেই বদল আনবে সরকারে। বাংলাদেশ বা নেপালের পথে হেঁটে নয়।
আসলে SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে CJP। আর সেখানে প্রতিবাদীদের নীরব করতে কেন্দ্রীয় সরকার বলপ্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেন প্রকাশ রাজ। তাঁর দাবি, প্রতিবাদীদের সঙ্গে আলোচনা করছে না সরকার। বলপ্রয়োগ করছে। তাই সরকার পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। তিনি বলেন, 'আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আমাদের এই জায়গায় ঠেলে দিয়েছেন। আপনারা বলপ্রয়োগ করছেন।'
প্রকাশের মতে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনের দাবিকে অরাজকতা বলে না। তাঁর মতে, প্রশ্ন করা, বিক্ষোভ দেখানো এবং ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকরা তাঁদের সাংবিধানিক অধিকারই প্রয়োগ করছেন।
প্রকাশ রাজ বলেন, 'আমাদের হাতে অস্ত্র নেই। আমাদের অস্ত্র সংবিধান। প্রতিবাদ করার অধিকারই আমাদের শক্তি।'
শুক্রবার তেরঙা মিছিলের আগে প্রতিবাদীদের আটক করার ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'হর ঘর তেরঙা' প্রচারের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, 'আমি মোদীজিকে প্রশ্ন করছি, আপনার হর ঘর তেরঙা স্লোগানের কী হল? এই দেশের যুবসমাজ তেরঙা নিয়ে পথে হাঁটতে চায়।'
এরপরই প্রতিবাদীদের উপর, এমনকী মহিলাদের উপরও পুলিশি অত্যাচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধী দলগুলিকে সংসদে এই বিষয়টি তোলার আহ্বান জানান প্রকাশ রাজ। পাশাপাশি, নাগরিকরা শান্তিপূর্ণভাবে পথে নেমে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।
প্রতিবাদের পরবর্তী পর্যায়ে কৃষক, সংযুক্ত কিষান মোর্চা এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠনের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন প্রকাশ রাজ। তাঁর দাবি, আগামিদিনে এই আন্দোলনে আরও বেশি সংখ্যায় মানুষ রাস্তায় নামবেন।