
Prashant Kishor Wins Bihar Bankipur Bypoll: টানা ৩৫ বছর। বিহারের বাঁকিপুর আসন নিজেদের 'দুর্ভেদ্য দুর্গ' বলত বিজেপি। সেখানেই ঝড় তুললেন প্রশান্ত কিশোর। সোমবার বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের গণনা ছিল। তাতে বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে ১৯,৩২৪ ভোটের ব্যবধানে হারালেন পিকে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোর পেয়েছেন মোট ৬৪,১৫১টি ভোট। সেখানে বিজেপির প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহার ঝুলিতে গিয়েছে ৪৪,৮২৭টি ভোট। মাত্র ১৪,২৭৩টি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি (RJD) র প্রার্থী রেখা গুপ্তা।
৩২ রাউন্ড গণনা। তার মধ্যে ১৫ নম্বর রাউন্ড থেকেই পিকে-র জয় একপ্রকার স্পষ্টই হয়ে গিয়েছিল। বিজেপি নেতা নীতিন নবীন রাজ্যসভায় যাওয়ার পর এই আসন খালি হয়ে ছিল। সেখানে এই জয়ে স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
এই জয় কিন্তু একদিনে আসেনি। বিজেপি বা আরজেডি যখন ভোটের ময়দানে নামার পরিকল্পনা করছিল, তার প্রায় দু'মাস আগে থেকেই ঘরছাড়া ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। বাঁকিপুরের অলিতে-গলিতে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলা, বুথ স্তরে সংগঠন তৈরি করা এবং তরুণ ও নতুন ভোটারদের মনের কথা বুঝে নিচ্ছিলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, সেটারই ফল পেলেন পিকে।
ভোট কৌশলী হিসাবে প্রশান্ত কিশোরের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার খামতি নেই। সেটাই কাজে লাগিয়েছেন।
বিজেপিও অবশ্য এই আসনটি নিজেদের মানরক্ষার লড়াই হিসেবে নিয়েছিল। প্রচারে নামানো হয়েছিল প্রায় ৪০ জন তারকা প্রচারক ও হাজার হাজার দলীয় কর্মীকে। কিন্তু পিকে-র জনসংযোগের ঝড়ে সবই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল।
‘বাঁকিপুর বদলাবে, কিন্তু রাতারাতি বেঙ্গালুরু হবে না’
জয়ের পর বেশ আত্মবিশ্বাসী প্রশান্ত কিশোর। তবে অবাস্তব প্রতিশ্রুতিও দিলেন না। বললেন, 'বাঁকিপুরের মানুষের এই বিশ্বাস ও আশীর্বাদকে মর্যাদা দেওয়াই আমার প্রথম কাজ। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই এলাকার পরিবর্তন আপনারা দেখতে পাবেন।' কিছুটা মজার ছলেই বললেন, 'আমার একার বিধায়ক হওয়াতেই বাঁকিপুর রাতারাতি বেঙ্গালুরু হয়ে যাবে না। তবে আসল কাজের পরিবর্তন যে শুরু হয়ে গিয়েছে, তা স্পষ্ট বোঝা যাবে।'
বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকেও একহাত নিলেন পিকে। খোঁচা দিয়ে বললেন, 'বাঁকিপুরের সাধারণ মানুষ বিজেপি নেতৃত্বকে পরিষ্কার বার্তা দিয়ে দিয়েছেন; বিহারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে একজন সৎ ও যোগ্য মুখ্যমন্ত্রী দরকার। বিহারের উন্নয়নই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।'
বিজেপি কী ভাবছে?
৩৫ বছরের পুরনো গড় হাতছাড়া। স্বাভাবিকভাবেই ব্যাকফুটে বিজেপি। বিহারের বিজেপি রাজ্য সভাপতি সঞ্জয় সারাওগি বলেন, 'জনগণের রায় আমরা মাথা পেতে নিচ্ছি। বাঁকিপুরের মানুষে প্রতি আমাদের একটা আন্তরিকতা আছে। ঠিক কোথায় আমাদের ভুল হল, কেন ভোট কম পড়ল, তা আমরা খতিয়ে দেখব।'
অন্যদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা বিরোধীদের তোপ দেগে বলেন, 'আমরা হারলেও ইভিএম (EVM) বা নির্বাচন কমিশনকে দোষ দেব না। এটি গণতন্ত্রের জয়। মাত্র ছয় মাস আগেই আমরা ২০২টি আসন জিতে ক্ষমতায় এসেছি, সেটাও সবাইকে মনে রাখতে হবে।'
কারণ যা-ই হোক, বিহারের মাটিতে প্রশান্ত কিশোরের এই খাতা খোলা যে আগামিদিনে পাটনার রাজনীতির সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।