
সংসদীয় পরিকাঠামো বদলে ফেলার এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি বড়সড় ষড়যন্ত্র করেছিল মোদী সরকার, কিন্তু তা বিফল হয়েছে। শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই মন্তব্য করলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। গত ১৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম ভোটাভুটিতে হেরে গিয়েছে কেন্দ্রের শাসকদল। লোকসভায় বিরোধীদের এই জয়কে 'গণতন্ত্রের বড় জয়' বলে উল্লেখ করলেন প্রিয়াঙ্কা।
গুরুতর অভিযোগ তুলে এদিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'ক্ষমতায় থাকার জন্য ষড়যন্ত্র করে এই বিল আনা হয়েছিল। ফলে কাল যা হল তা গণতন্ত্রের বড় জয়। সংবিধান বিরোধী ঐক্যের জয় হয়েছে। যার প্রভাব স্পষ্ট দেখা গিয়েছে শাসকদলের নেতাদের মুখেই।' তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল এবং সেই লক্ষ্যেই পুরো ঘটনাপ্রবাহ সাজানো হয়েছে। তাঁর কথায়, 'ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য একটি বড়সড় ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। হঠাৎ করে অধিবেশন ডাকা হয়েছিল।'
কংগ্রেস নেত্রী আরও বলেন, 'শাসকপক্ষ এমনভাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছিল যাতে ফল যাই হোক না কেন, তারা কৃতিত্ব দাবি করতে পারে। তারা ভেবেছিল, বিল পাশ হলে সেটাও তাদের জয়, আর পাশ না হলেও সেটাও তাদের জয়। কিন্তু বিষয়টি এতটা সহজ নয়। এই ইস্যু শুধু নারী সংরক্ষণ নিয়ে নয়, বরং ইচ্ছামতো কাজ করার স্বাধীনতা নিয়ে।'
নারী সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে সীমা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) যুক্ত করার প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে বিরোধীরা এমন একটি সরকারকে লোকসভা আসনের সংখ্যা বড় আকারে পরিবর্তন করার অনুমতি দিতে পারে, যারা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি সম্মান দেখায় না? তিনি এটিকে শাসক জোটের জন্য বড় ধাক্কা বলে উল্লেখ করে বলেন, 'এটি তাদের জন্য একটি কালো দিন, কারণ তারা ধাক্কা খেয়েছে।'
অতীতের ঘটনাগুলির উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমি খুবই খুশি। আপনারা দেখেছেন, বিরোধীরা এক হলে কী হয়।' প্রিয়াঙ্কা সরকারকে আগের সংস্করণের বিলটি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। কংগ্রেস সাংসদে মতে, 'আপনারা যদি সত্যিই মহিলাদের জন্য কিছু করতে চান, তাহলে ২০২৩ সালের বিলটি ফিরিয়ে আনুন, আমরা তা সমর্থন করব।'
প্রিয়াঙ্কার মতে, ২০২৩ সালের বিলটিতে স্পষ্টভাবে বলা ছিল, বর্তমান আসনের মধ্যেই মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ কার্যকর করা হবে। তাঁর সংযোজন, এই সংরক্ষণ কার্যকর করতে বিরোধীরা প্রস্তুত।