
পুনের তরুণ ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। পুলিশের দাবি, এটি কোনও আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আর সেই পরিকল্পনার নেপথ্যে ছিলেন কেতনের হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী।
তদন্তে জানা গিয়েছে, খুনের মাত্র একদিন আগে পুনের একটি নামী ক্যাফেতে বসে কেতনকে হত্যার চূড়ান্ত ছক কষেছিল সিয়া ও চেতন। ১৭ জুন বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ দু’জনে ক্যাফেতে প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে কাটায়। সেই সময় কফির আড্ডার ফাঁকেই তারা লোহাগড় দুর্গের বিভিন্ন ইউটিউব ভিডিও দেখে সম্ভাব্য জায়গাগুলি খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে। পুলিশের মতে, কোন জায়গা থেকে কেতনকে ধাক্কা দিলে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানো সহজ হবে, সেই পরিকল্পনাই করা হয়েছিল।
পরদিন, ১৮ জুন সিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে কেতনকে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে যান তিনি। সেখানে গিয়ে কেতন প্রায় ৪০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে মারা যান। প্রথমে সিয়া দাবি করেছিলেন, ছবি তুলতে গিয়ে প্রবল হাওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে খাদে পড়ে যান কেতন। সেই বয়ানের ভিত্তিতেই প্রথমে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
কিন্তু তদন্তে একের পর এক অসঙ্গতি সামনে আসে। পুলিশ দেখতে পায়, সিয়া ছবি তোলার কথা বললেও কেতনের মোবাইলে দুর্গের কোনও ছবিই ছিল না। পাশাপাশি, ঘটনাস্থলটি সাধারণ পর্যটকদের বিশ্রাম নেওয়ার জায়গাও ছিল না। জেরার মুখে সিয়া একাধিকবার নিজের বক্তব্য বদলান, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র আসে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে। সেখানে দেখা যায়, কেতন ও সিয়ার ঠিক পেছনেই হুডি পরা এক যুবক হাঁটছিলেন। ফুটেজে সিয়াকে বারবার পিছন ফিরে ওই যুবকের দিকে তাকাতে এবং ইশারায় যোগাযোগ করতে দেখা যায়। পরে কল ডিটেইলস ও মোবাইল লোকেশন বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, ওই ব্যক্তি আর কেউ নন, চেতন চৌধুরী।
পুলিশের দাবি, কেতন ও সিয়া দুর্গে পৌঁছানোর আগেই সেখানে হাজির হয়েছিল চেতন। সে মাত্র ৪৮ মিনিট দুর্গে থেকে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায়। তদন্তকারীদের মতে, এই অস্বাভাবিক আচরণই সন্দেহ আরও ঘনীভূত করে।
এরপর স্থানীয় ক্রাইম ব্রাঞ্চ চেতনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশ সূত্রে দাবি, জেরায় উঠে আসে সিয়া ও চেতনের সম্পর্কের কথা এবং কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য। যদিও তদন্তকারীরা শুধুমাত্র স্বীকারোক্তির উপর নির্ভর করেননি। সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, কল রেকর্ড, লোকেশন ডেটা এবং ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বর্তমানে সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরী পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই ষড়যন্ত্রে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না। একসময় যে সম্পর্ক বিয়ের মণ্ডপে পৌঁছানোর কথা ছিল, সেই সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে এক শিহরণ জাগানো খুনের মামলায়। এখন নজর আদালত ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।