
বিপুল সম্পত্তির অধিকারী পুরীর জগন্নাথ মন্দির। দ্বাদশ শতাব্দীর এই মন্দিরের তরফে প্রকাশিত হল ব্যাঙ্ক ব্যালান্স এবং জমিজমার পরিমাণ। জানা গিয়েছে, মন্দির কমিটির ব্যাঙ্কে প্রায় ১ হাজার ৯১২ কোটি টাকা জমা রয়েছে। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মন্দিরের মালিকানাধীন ৬০ হাজার ৮২১ একর জমি রয়েছে। এ ছাড়াও মন্দিরের রত্নভাণ্ডারে রয়েছে সোনা ও হিরের অলঙ্কারের বিপুল সম্ভার। শ্রী জগন্নাথ টেম্পল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (SJTA)-এর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রকাশিত এই তথ্য রীতিমতো চমকে দিয়েছে সকলকে।
SJTA-এর বিবৃতি অনুযায়ী, ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত ৩টি প্রকল্পের অধীনে মন্দিরের ১ হাজার ৮১১.১০ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিটে রাখা ছিল। এর মধ্যে ১ হাজার ৩১১.১০ কোটি টাকা বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে জমা রয়েছে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা ওড়িশা সরকারের দেওয়া একটি কর্পাস ফান্ড রাখা হয়েছে। যা মন্দিরের লাভ-ক্ষতির হিসাবে রাখে।
এ ছাড়াও, ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত মন্দিরের বিভিন্ন সেভিংস, কারেন্ট এবং ফ্লেক্সি অ্যাকাউন্টে ১০০ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা ছিল। ফলে মন্দিরের মোট ব্যাঙ্কে থাকা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৯১১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা।
SJTA জানিয়েছে, মন্দিরের আয়ের মূল উৎস হল ভক্তদের দেওয়া অনুদান। পাশাপাশি মন্দিরের মালিকানাধীন পাথরের খনি ও খনি থেকে আয়, ফিক্সড ডিপোজিট থেকে পাওয়া সুদ, জমি বিক্রি ও অধিগ্রহণ এবং সরকারি অনুদান থেকেও অর্থ জমা হয়।
বিবৃতিতে SJTA-এর প্রধান প্রশাসক অরবিন্দ পাধি বলেন, 'আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ কর্পাস ফান্ড হিসেবে এবং অন্য একটি অংশ ফাউন্ডেশন ফান্ড হিসেবে ফিক্সড ডিপোজিটে রাখা হয়। বাকি আয় মন্দিরের তহবিলে রাখা হয়।'
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৫ বছরে মন্দিরে নগদ টাকা, অলঙ্কার এবং বিগ্রহ চুরির অন্তত ৭টি ঘটনা ঘটেছে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দানের টাকা গণনার সময় ৩১ হাজার ৯৪০ টাকা চুরি করার অভিযোগে মন্দিরের এক কর্মী CCTV-তে ধরা পড়েন। তার এক বছর আগে একই প্রক্রিয়ায় ৮০০ টাকা চুরির অভিযোগে মন্দিরের এক পিওনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
দ্বাদশ শতাব্দীর এই মন্দিরটি ১৯৫৫ সালের শ্রী জগন্নাথ টেম্পল অ্যাক্ট অনুযায়ী ওড়িশা সরকারের আইন দফতরের অধীনে পরিচালিত হয়।
২০২৪ সালে দীর্ঘ ৪৬ বছর পর খোলা হয়েছিল পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ঐতিহাসিক রত্নভাণ্ডারের দরজা। রত্নভাণ্ডারের বাইরের ও ভিতরের কক্ষ পরিদর্শনের ও সারানোর কাজ হলেও, ভিতরে থাকা সম্পদের বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ ছিলেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁরা কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেননি। পুরনো হিসেব অনুযায়ী, রত্নকক্ষে রয়েছে অন্তত ৭৪টি ভারী সোনার অলঙ্কার, যার প্রতিটির ওজন প্রায় এক কেজি বা তারও বেশি। এছাড়া সোনা, হিরে, পান্না, প্রবাল ও মুক্তো খচিত নানা অলঙ্কার, প্লেট এবং প্রায় ১৪০টি ভারী রুপোর গয়না। জগন্নাথদেবের অলঙ্কারের মধ্যে রয়েছে সোনার ময়ূরের পালক, চালুপাটি, শ্রীকুণ্ডল, কদম্বমালা, চক্র, গদা, পদ্ম ও শঙ্খ। পাশাপাশি জগন্নাথ ও সুভদ্রার জন্য রত্নখচিত তৃতীয় নয়ন থাকারও উল্লেখ রয়েছে। একটির মাঝে হিরে এবং অন্যটিতে পান্না বসানো আছে। রত্নভাণ্ডারে যে বিপুল অলঙ্কার রয়েছে তার মাত্র ১০ শতাংশ প্রভু জগন্নাথকে পরানো হয়। বাকি হিসেব এখনও দেয়নি মন্দির।