
পুরীতে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। খোদ ভগবানের জায়গায় নৃশংস খুনের ঘটনা। তাও মা'কে খুন করে তাঁর দেহ কবর দেওয়ার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে! ঘটনায় এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গিয়েছে, পুরী শহরের কুম্ভরপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, মা ও ছেলে প্রায় দু’মাস আগে ওই পাড়ায় একটি বাড়িতে ভাড়া নিয়েছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে ওই মহিলাকে এলাকায় দেখা যায়নি, এরপর সম্প্রতি নিখোঁজ হয়ে যায় ছেলেও। ভাড়া বাড়ির মালিক সোমবার রান্নাঘর থেকে ব্যাপক দুর্গন্ধ বের হতে দেখে সন্দেহ করতে শুরু করেন। এরপরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রান্নাঘর পরীক্ষা করে দেখতে পায়, মেঝের একটি অংশ সম্প্রতি সিমেন্ট দিয়ে প্লাস্টার করা হয়েছে। এরপর পুলিশের সন্দেহ হয়, ওই অংশের নীচে কোনও কিছু লুকিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তারপরেই ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক দলকে ডাকা হয়। সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো অংশটি ভেঙে ফেলা হলে সেখান থেকে প্রায় পচে যাওয়া এক মহিলার দেহ উদ্ধার করা হয়। সোমবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। যদিও ওই দেহটি কার তা পুলিশের তরফে এখনও নিশ্চিত করে বলা হয়নি। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে, গুণধর ছেলেই মাকে খুন করার পর অপরাধের প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে ভাড়াবাড়ির রান্নাঘরের মেঝের নীচে দেহটি পুঁতে রেখেছিল। এরপর গন্ধ বেরোতে পারে, সেই আঁচ পেয়ে পালিয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই তাকে পাকড়াও করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ওই বাড়ির মালিক মনোরমা সাহু পুলিশকে জানিয়েছেন, মা ও ছেলে প্রায় দু’মাস ধরে ওই বাড়িতে থাকছিলেন। বেশ কয়েক দিন ধরে মহিলাকে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, ছেলেটি সম্প্রতি বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ছেলেটি পুরীতেই একটি স্টুডিওতে কাজ করত। আর মহিলা ভিক্ষা করতেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, মা ও ছেলের মধ্যে বড় কোনও ঝামেলা তাঁরা হতে দেখেননি। ফলে এই ঘটনায় পড়শিরাও হতবাক।