Advertisement

Rahul Gandhi : 'ভোট চুরি হলে আইনও চুরি', মোদী-জ্ঞানেশকে নিশানা করে বিস্ফোরক অভিযোগ রাহুলের

সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন। দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে ‘অরাজকতা’ বা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তার জন্য তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে দায়ী করেন।

রাহুল গান্ধী রাহুল গান্ধী
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 24 Sep 2026,
  • अपडेटेड 6:08 PM IST
  • রাহুল গান্ধী বলেন, 'ভোট চুরি থেকে আইন চুরি।'
  • তবে এটি রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ

‘ভোট চুরি’ থেকে ‘আইন চুরি’! ভোটের কারচুপির অভিযোগকে এবার সংসদে তৈরি হওয়া আইন এবং দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থার বৈধতার সঙ্গে জুড়ে দিলেন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হচ্ছে। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে তিনি ‘১০০ শতাংশ নিশ্চিত’ বলে কারচুপির অভিযোগ করেন।

রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, ভোটই দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থার ভিত্তি। ভোট সংবিধানকে শক্তি দেয়, সংবিধানের ভিত্তিতে আইন তৈরি হয় এবং সেই আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলি কাজ করে। তাই ভোটের প্রক্রিয়াই যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তার প্রভাব সংবিধান, আইন এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলির উপরও পড়ে।

‘ভোট চুরি থেকে আইন চুরি’

রাহুল গান্ধী বলেন, 'ভোট চুরি থেকে আইন চুরি।' তাঁর দাবি, যদি ভোটই চুরি হয়ে থাকে, তাহলে সেই ভোটে নির্বাচিত সাংসদরা যে আইন তৈরি করেছেন, সেই আইন এবং তাঁদের করা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাঁর কথায়, 'ভোট চুরি হয়ে থাকলে, সেই ভোটে সংসদে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের তৈরি করা যে কোনও আইন বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনও বেআইনি।'

তবে এটি রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ। নির্বাচন কমিশন এই ধরনের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় এবং কমিশন তার সিদ্ধান্ত ও কাজকর্মকে আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বলে জানিয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি নিশানা

সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন। দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে ‘অরাজকতা’ বা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তার জন্য তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে দায়ী করেন। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবি, কমিশনের অন্দরে জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এমনকি জ্ঞানেশ কুমারকে ‘দেশদ্রোহী’ বলেও মন্তব্য করেন রাহুল। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ভোটের উপর আঘাত করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে মৌলিকভাবে দুর্বল করেন, তাঁকে অন্য কোনও শব্দে বর্ণনা করা যায় না। এরপরই জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।

Advertisement

‘আমি হাওয়ায় অভিযোগ করছি না’

রাহুল গান্ধী দাবি করেন, তিনি হালকাভাবে এই অভিযোগ করছেন না। গত তিন বছর ধরে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন এবং তাঁর বক্তব্যের ভিত্তি অনুমান বা কল্পনা নয়, তথ্য। তাঁর দাবি, 'আমি সবসময় তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলেছি। অনুমান বা নিজের কল্পনার ভিত্তিতে নয়।'

মোদী-শাহের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ

রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ‘আক্রমণ ও ধ্বংস’ করার অভিযোগ তোলেন।

দিল্লির কংগ্রেস সদর দফতরে বক্তব্য রাখার সময় একটি স্লাইড দেখিয়ে তিনি কথিত ‘ভোট চুরি’র পিছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন। ওই স্লাইডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং RSS প্রধান মোহন ভাগবতের ছবি ছিল বলে জানান তিনি। তাঁদের নীচে ঘুঁটি হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতার ছবিও দেখানো হয়। তবে এগুলিও রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক অভিযোগ। এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে প্রমাণিত সত্যতা সম্পর্কে তিনি যে তথ্যের কথা বলেছেন, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য আলাদা হতে পারে।

২০২৪-এর ভোট নিয়ে ‘১০০ শতাংশ নিশ্চিত’ দাবি

রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং একাধিক বিধানসভা নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ইতিমধ্যেই এমন পর্যাপ্ত তথ্য সামনে এসেছে যার ভিত্তিতে তিনি ‘৯৯ শতাংশ নয়, ১০০ শতাংশ নিশ্চিত’ যে ভারতীয় নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বলে দাবি করছেন।

তিনি বলেন, লোকসভা নির্বাচন ২০২৪ এবং বিধানসভা নির্বাচনগুলিও এই অভিযোগের আওতায় রয়েছে। তাঁর দাবি, আগামী দিনে এই অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও তথ্য সামনে আসবে।

অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি গেল কোথায়?

নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে যে অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি বা সরকার-বিরোধী মনোভাব তৈরি হতে পারে, সেই বিষয়টিও তোলেন রাহুল গান্ধী।

তিনি প্রশ্ন করেন, কংগ্রেস এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের ক্ষেত্রে যে অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি বারবার দেখা গিয়েছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে তা বিজেপি বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্ষেত্রে কেন দেখা যাচ্ছে না?

উদাহরণ হিসেবে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধীর জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ১৯৭১ সালের পর ইন্দিরা গান্ধীর জনপ্রিয়তা থাকলেও কয়েক বছরের মধ্যে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধেও অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি তৈরি হয়েছিল।

এরপর হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ এবং গুজরাতের নির্বাচনের ফলাফলের ওঠানামার প্রসঙ্গ তুলে রাহুল দাবি করেন, নির্বাচনে অ্যান্টি-ইনকামবেন্সির প্রচলিত ধারা বদলে গিয়েছে। কংগ্রেস কেন এমনটা হচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা করেছে এবং এর উত্তর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

দুই নির্বাচন কমিশনারের ১৪টি আপত্তির প্রসঙ্গ

রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্য নিয়ে সাম্প্রতিক রিপোর্ট।

The Indian Express-এর একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের দাবি ছিল, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাঁদের জানানো হয়নি।

এই আপত্তির মধ্যে নতুন ভোটার সংযোজন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, Form 6-এ পরিবর্তন, ভোটার ডেটাবেসের অ্যাক্সেস এবং SIR প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিষয় ছিল বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। দুই কমিশনারের আপত্তিগুলি CEC জ্ঞানেশ কুমারের কাছেও পাঠানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘ভোটের ভিত্তি নষ্ট হলে সংবিধানও কাজ করবে না’

রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ভোটারদের ভোটের অধিকার রক্ষা করা। তাঁর বক্তব্য, ভোট দেশের ভিত্তি। ভোট সংবিধানকে শক্তি দেয়, সংবিধান আইন তৈরির ক্ষমতা দেয় এবং আইন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলিকে পরিচালনা করে।

Advertisement

তাঁর দাবি, যদি ভোটের প্রক্রিয়াই নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সংবিধানও তার শক্তি হারায় এবং কার্যত কাজ করে না।

তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু ভোটের উপর আক্রমণ নয়, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের উপর আক্রমণ।

২০২৩ সালের আইন নিয়েও প্রশ্ন

নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে ২০২৩ সালের চিফ ইলেকশন কমিশনার অ্যান্ড আদার ইলেকশন কমিশনারস অ্যাক্ট এর কথাও বলেন রাহুল গান্ধী। এই আইনে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ, মেয়াদ এবং কাজের বিভিন্ন নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনের ১৬ নম্বর ধারায় সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনারের করা কোনও কাজ, বিষয় বা বক্তব্যের জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা গ্রহণ বা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। রাহুল গান্ধীর প্রশ্ন, এই ধরনের সুরক্ষা নির্বাচন কমিশনারদের জবাবদিহির উপর কোনও প্রভাব ফেলছে কি না।

জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের জন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের প্রক্রিয়া কার্যনির্বাহীর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা জরুরি।

২০২৩ সালের আইনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য যে সিলেকশন কমিটি রয়েছে, তার চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী। কমিটিতে থাকেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ করেন।

রাহুল গান্ধী দাবি করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁর আপত্তি ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং পরে জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য কী?

দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, কোনও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত বা পর্যবেক্ষণের পার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয়। কমিশনের দাবি, SIR-সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পূর্ণাঙ্গ কমিশনের প্রক্রিয়া মেনেই নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি India Today প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনার গত ১০ মাসে বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি নথিভুক্ত করলেও একই সময়ে তিন সদস্যের কমিশন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে যৌথভাবে উপস্থিত থেকেছে এবং প্রকাশ্যে নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্যের কথা জানায়নি।

মহারাষ্ট্র-হরিয়ানা নিয়েও পুরনো অভিযোগ

রাহুল গান্ধী মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও তাঁর পুরনো অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেস আগেই ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনী তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তরফে সেই অভিযোগের যথেষ্ট তদন্ত বা পদক্ষেপ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

রাহুলের বক্তব্য, তিনি যে প্রশ্নগুলি তুলছেন তা শুধুমাত্র একটি নির্বাচন বা একটি রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়। এটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।

জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে বিরোধীদের তৎপরতা

এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবি ঘিরে বিরোধীদের তৎপরতাও বেড়েছে। এর আগে ২৪ এপ্রিল রাজ্যসভার ৭৩ জন বিরোধী সাংসদ জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে নোটিস দিয়েছিলেন। এখন দুই নির্বাচন কমিশনারের একাধিক আপত্তির রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধীরা সংসদের দুই কক্ষেই ফের নতুন নোটিস আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর।

ফলে SIR, ভোটার তালিকা, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা- একাধিক বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। 

Read more!
Advertisement
Advertisement