
অতীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ভরা লোকসভায় জড়িয়ে ধরেছিলেন। এ বার মোদী সরকারের বিদেশনীতিকে কটাক্ষ করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতাকে জাপ্টে ধরলেন। কথা হচ্ছে কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর।
কংগ্রেসের ন্যাশনাল কনভেনশনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিদেশনীতিকে তীব্র নিশানা করেন রাহুল। তিনি বলেন, 'আমি জানি না, উনি কোথা থেকে এই আইডিয়া পেয়েছেন। আজব সব আইডিয়া।' এরপরেই পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত। রাহুল দৌড়ে গিয়ে সন্দীপকে একেবারে জড়িয়ে ধরলেন। তারপর বললেন, 'উনি (প্রধানমন্ত্রী মোদী) মনে করেন, এটাই বিদেশনীতি।'
'আপনি আমাকে মেলোনি ভেবে জড়িয়ে ধরেননি তো?'
ঘটনাকে আরও উস্কে দিতে সন্দীপ দীক্ষিত তখন রাহুলকে মজা করে প্রশ্ন করলেন, 'আপনি আমাকে মেলোনি ভেবে জড়িয়ে ধরেননি তো?' রাহুল তখন উত্তরে বললেন, 'আমি ওই পর্যায়ে এখনও পৌঁছইনি।' সভায় থাকা সকলে হেসে ওঠেন। এই ঘটনার পরেই প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করা হয়েছে, দাবি করে রাহুলকে বিঁধতে শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। বিজেপি-র অভিযোগ,রাহুল গান্ধী ফের অপরিণত মন্তব্য করলেন। যদিও কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, রাহুল গান্ধী তো মেলোনির নামও নেননি।
রাহুলকে তীব্র নিশানা বিজেপি-র
বিজেপি-র মুখপাত্র সঞ্জু ভার্মা বলেন, রাহুল গান্ধীর মন্তব্য ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়, ঘৃণ্য’ এবং বিরোধী দলনেতা বা একজন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর কাছ থেকে এমন মন্তব্য ‘কখনওই কাম্য নয়’। তবে কংগ্রেসের মুখপাত্র শামা মহম্মদ বলেন, রাহুল গান্ধী ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে কোনও কটাক্ষ করেননি। তিনি ইন্ডিয়া টুডে টিভিকে বলেন, 'রাহুল গান্ধী মেলোনির নামই নেননি। রাহুল গান্ধী তাঁকে (সন্দীপ দীক্ষিতকে) আলিঙ্গন করেছেন। এতে ভুলের কী আছে?'
'বিদেশিরা আলিঙ্গন পছন্দ করেন না'
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শামা। মোদীর বারবার আলিঙ্গন করার প্রবণতা নিয়ে তিনি বলেন, 'আমি একজন বিদেশিকে বিয়ে করেছি। বিদেশিরা আলিঙ্গন পছন্দ করেন না। তাঁরা সাধারণত করমর্দন করতে পছন্দ করেন। পরিচয় ঘনিষ্ঠ হলে আলিঙ্গন বা চুম্বন করেন।'
BJP, RSS-কে রাহুলের নিশানা 'জোকারদের দল'
ওই ইভেন্টেই বিজেপি ও আরএসএস-কেও টার্গেট করেন রাহুল। কটাক্ষ করে বলেন, জোকার, ক্লাউনদের দল দুটোই। ভারতের ইতিহাস সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। ভারতীয় সংস্কৃতি, এমনকী বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি নিয়েও কোনও ধারণা নেই। তাঁর কথায়, 'যন্তর মন্তরে যা ঘটছে, আপনি যদি দেখেন, তা হলে বুঝবেন, পড়ুয়ারা তাঁদের বক্তব্য ও মতামত প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার বলেছিল, আমরা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চাই, তাই আপনারা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন না।'
RSS-কে বিঁধে রাহুলের মন্তব্য, 'RSS-এর যে আসল শক্তি ছিল, তারা শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন আরএসএস বড় পুঁজির স্বার্থে কাজ করা একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তারা আদানির সেবক, ঠিক যেমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও আদানির সেবক।'