
শনিবার লালকেল্লায় আয়োজিত হয়েছে ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান। আর এবারের অনুষ্ঠানেও দেখা গেল না কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে। এই নিয়ে পরপর দুই বছর এই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত রইলেন তাঁরা।
কেন গেলেন না তাঁরা?
এই নিয়ে ইতিমধ্যেই জলঘোলা শুরু হয়ে গিয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহলে। তবে সূত্রের খবর, প্রোটোকল নিয়ে অসন্তোষের কারণেই এবারের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেননি রাহুল গান্ধী ও খাড়গে। তাঁদের অভিযোগ, আসনবিন্যাস এবং অনুষ্ঠানের অন্যান্য প্রোটোকল নিয়ে অসন্তোষ ছিল। এগুলি তাঁদের সাংবিধানিক পদমর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না বলেই এড়িয়ে গিয়েছেন অনুষ্ঠান।
এ বছর স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সরকারি ‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’ মেনেই তাঁর আসন ঠিক করা হবে। রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের জারি করা এই প্রোটোকল তালিকা অনুযায়ী, লোকসভার বিরোধী দলনেতার পদমর্যাদা কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমতুল্য। কিন্তু তারপরও সেই অনুষ্ঠানে দেখা গেল না রাহুল এবং খাড়গেকে।
মাথায় রাখতে হবে, ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর আসন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই নিয়ে এখনও মাঝে মধ্যে গরম হয় রাজনীতি। তার মধ্যে আবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল।
আসলে ২০২৪ সালে লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা পান রাহুল গান্ধী। কিন্তু সেই বছর লালকেল্লায় পঞ্চম সারিতে বসানো হয়েছিল তাঁকে। কংগ্রেস সেই আসনবিন্যাসের তীব্র সমালোচনা করে। তাদের অভিযোগ ছিল, সরকার দেশের বিরোধী দলনেতার পদকে অপমান করেছে। তারা এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ‘সংকীর্ণ মানসিকতার’ পরিচয় দিয়েছে।
তবে নিজের মতো করে যুক্তি দিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। তাদের দাবি ছিল, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অলিম্পিয়ানদের বসানোর জন্যই রাহুলকে ওই সিট দেওয়া হয়েছিল।
এমন পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালেও লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে অনুপস্থিত ছিলেন। তাই নিয়েও বিতর্ক কম হয়নি। আর সেই ট্রেন্ড এবারও বজায় রইল।
মাথায় রাখতে হবে, নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তাদের নেতাদের সঙ্গে ঠিকঠাক আচরণ হয় না বলে একাধিকবার আভিযোগ করেছে কংগ্রেস। চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানেও আসনবিন্যাস নিয়ে কংগ্রেস আপত্তি জানিয়েছিল। দলের অভিযোগ ছিল, রাহুল গান্ধী এবং খাড়গেকে তৃতীয় সারিতে বসানো হয়েছিল।
তার উত্তরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছিল, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে আসনবিন্যাস ‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ীই করা হয়েছিল।
‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’-এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে অতিথিদের সিট ঠিক করা হয়। সেই সঙ্গে প্রোটোকল নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাংবিধানিক পদমর্যাদা ও সরকারি দায়িত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।