
বেশ কিছু দিন ছন্দেই ছিল বর্ষা। পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা ভারতেই মোটের উপর ভালই বৃষ্টি হয়েছে। ধীরে ধীরে কমেছে বর্ষার ঘাটতি। তবে বর্তমান স্যাটেলাইট চিত্র আবার চিন্তার ছবি তুলে ধরছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, দেশের বিস্তীর্ণ অংশে, এমনকী বঙ্গোপসাগরের উপরেও মেঘ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে, দেশে বর্ষার গতি কি এ বার থেমে গেল? মৌসুমি বায়ুর উপর কি এল নিনোর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে?
এই মুহূর্তে মধ্য ভারতের উপর অবস্থানরত নিম্নচাপটি (এলপিএস) মেঘ তৈরি ও বৃষ্টিপাতের জন্য প্রধান আবহাওয়াজনিত ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে। তবে এই নিম্নচাপের প্রভাব মূলত মধ্য ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। দেশের অন্যান্য বড় অংশে ধীরে ধীরে কমছে মৌসুমি বায়ুর অ্যাক্টিভিটি।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই সময় বঙ্গোপসাগরের উপর মেঘ কমেছে। আর ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর জন্য বঙ্গোপসাগর একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্দ্রতার উৎস। তাই বঙ্গোপসাগরের উপর মেঘ কমে যাওয়া এই ইঙ্গিত দিতে পারে যে স্থলভাগের দিকে আর্দ্রতা পরিবহণ ব্যবস্থা বেশ কিছুটা দুর্বল হচ্ছে। এর ফলে নিম্নচাপ বা অন্যান্য ওয়েদার সিস্টেম তৈরি হতে সমস্যা হতে পারে। এমনকী সেইগুলি স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসার প্রক্রিয়াও সমস্যার মুখে পড়তে পারে।
ও দিকে আবার, মৌসুমি অক্ষও ধীরে ধীরে দক্ষিণ দিকে সরে যাচ্ছে। এর ফলে উত্তর ভারতের সমতলভূমিতে বৃষ্টিপাত কমতে পারে। যার জন্য দিল্লি-এনসিআর, হরিয়ানা, পঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশে ফের শুষ্ক আবহাওয়া ফিরে আসার বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিপদের নাম এল নিনো
মাথায় রাখতে হবে, বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রভাব বাড়াচ্ছে এল নিনো। এর বিকাশের দিকে বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদরা সবসময় নজর রাখছেন। সাধারণত এল নিনোর কারণে বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালনে পরিবর্তন আসে। আর সেটাই ভারতীয় মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দিতে পারে। যদিও প্রতিটি এল নিনোর প্রভাব একরকম হয় না।
যদিও বিশেষজ্ঞরা শান্তনা দিয়ে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রের এই সংকেত মৌসুমি বায়ুর ‘ধস’-এর নিশ্চিত ইঙ্গিতবাহী নয়। মধ্য ভারত সহ দেশের বেশ কিছু অংশে এখনও বৃষ্টির সহায়ক আবহাওয়া ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু দ্রুত মেঘ কমে যাওয়া এবং বঙ্গোপসাগরের উপর মৌসুমি কার্যকলাপ দুর্বল হয়ে পড়া ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফের নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে বর্ষা।
এখন প্রশ্ন একটাই, মেঘের এই দুর্বল হয়ে পড়া কি সাময়িক, নাকি এটাই প্রথম লক্ষণ যে ভারতে বর্ষার উপর ফের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে এল নিনো?