
Rasgulla Origin Debate 2026 Bengal Vs Odisa: বাঙালির প্রাণের আবেগ রসগোল্লা নিয়ে ফের শুরু হয়েছে এক মিষ্টি বিতর্ক। আর এই বিতর্কের ঘৃতাহুতি দিয়েছেন খোদ সেলিব্রিটি শেফ কুণাল কাপুর। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে রসগোল্লার উৎস নিয়ে তাঁর করা এক মন্তব্য ঘিরেই সরগরম হয়ে উঠেছে নেটপাড়া। বরাবরের মতো আবারও সেই পুরনো প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, রসগোল্লা কি বাংলার, নাকি ওড়িশার?
কী বলেছেন কুণাল?
মির্চি পাঞ্জাবির একটি পডকাস্টে ভারতীয় খাদ্যাভ্যাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কুণাল বলেন, “কলকাতার মানুষ হয়তো আমার ওপর একটু রুষ্ট হতে পারেন, তবে শোনা যায় রসগোল্লা আসলে ওড়িশার। আমি বলছি না, তবে এটাই প্রচলিত রয়েছে। যা সত্যি তা তো সত্যি।” কুণালের এই মন্তব্য নিমেষেই ভাইরাল হয়েছে। তবে তিনি ওড়িশার ছানাপোড়ারও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, ছানাপোড়া হলো ভারতীয় সংস্কৃতির বহু প্রাচীন ‘চিজকেক’। তিনি আরও মনে করেন, বাংলা ও ওড়িশা, দুই রাজ্যেরই মিষ্টির স্বাদ ও ছানার কাজের ধরণ যথেষ্ট কাছাকাছি।
দীর্ঘ লড়াই ও জিআই ট্যাগ
রসগোল্লার অধিকার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার রেষারেষি আজকের নয়। ২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘বাংলার রসগোল্লা’র জন্য জিআই (Geographical Indication) ট্যাগ পায়। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন এই যুদ্ধের অবসান হলো। কিন্তু ২০১৯ সালে ওড়িশাও তাদের নিজস্ব ‘ওড়িশা রসাগোলা’র জন্য জিআই ট্যাগ হাসিল করে নেয়। অর্থাৎ, আইনত দুই রাজ্যের রসগোল্লাই এখন নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল।
ইতিহাস বনাম কারুকাজ
ওড়িশার দাবি তাদের জগন্নাথ মন্দিরের রীতির সঙ্গে রসগোল্লা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নীলাদ্রি বিজের সময় লক্ষ্মীদেবীকে রসগোল্লা নিবেদন করার প্রথা বহু শতাব্দীর প্রাচীন। এমনকী পঞ্চদশ শতাব্দীর ওড়িয়া রামায়ণেও এর উল্লেখ আছে বলে তাঁদের দাবি। অন্যদিকে, বাংলার দাবি হলো নবীনচন্দ্র দাসের হাত ধরে তৈরি হওয়া স্পঞ্জ রসগোল্লা। ১৮৬৮ সালে বাগবাজারের এই ময়রা যে রসগোল্লা তৈরি করেন, তা তার গঠন ও স্বাদে সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলার রসগোল্লা যেমন ধবধবে সাদা ও স্পঞ্জি, ওড়িশার রসাগোলা আবার স্বাদে অনেকটা ক্যারামেলের মতো এবং রঙে হালকা বাদামী।
বিতর্ক হয়তো কোনওদিন মিটবে না, আর মেটার দরকারও নেই। কারণ এই রেষারেষিই বুঝিয়ে দেয় আমাদের দেশের খাদ্যাভ্যাস কতটা সমৃদ্ধ। ইতিহাস যাই হোক, শেষ পর্যন্ত বাঙালির পাতে যেমন রসগোল্লা শ্রেষ্ঠ, ওড়িশার জগন্নাথ মন্দিরের ভোগেও রসাগোলা ততটাই পবিত্র। এই মিষ্টি যুদ্ধে আপাতত জয় হয়েছে কেবল ভোজনরসিকদেরই।