
ভারতের বাইরে নির্ধারিত তিথি ছাড়া অন্য সময়ে রথযাত্রা আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইসকন এবং পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দির প্রশাসনের (এসজেটিএ) মধ্যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ফের সামনে এসেছে। এবার ইসকনের দাবি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে মন্দির প্রশাসন। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের দাবি ভক্তদের বিভ্রান্ত করছে এবং শাস্ত্রসম্মত নয়।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এসজেটিএ জানায়, ১২ জুলাই নয়াদিল্লিতে ইসকনের জাতীয় যোগাযোগ কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একাধিক "ভুল ও বিভ্রান্তিকর" দাবি করা হয়েছে। প্রশাসনের অভিযোগ, শ্রীজগন্নাথের রথযাত্রার সময় ও শাস্ত্রীয় বিধান সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরির উদ্দেশ্যেই ওই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসকনের দাবি ছিল, ভারতের বাইরে নির্ধারিত তিথির বাইরে রথযাত্রা পালন করা হিন্দু ধর্মগ্রন্থে অনুমোদিত এবং তাদের আয়োজন সম্পূর্ণ শাস্ত্রসম্মত। তবে এসজেটিএ এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। মন্দির প্রশাসনের বক্তব্য, এমন দাবি শাস্ত্রসম্মত নয় এবং এ বিষয়ে ইসকনের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়।
এসজেটিএ জানিয়েছে, গত ২০ মার্চ ভুবনেশ্বরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইসকনের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন শাস্ত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বিদেশে ভিন্ন তারিখে রথযাত্রা আয়োজনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু পুরী মন্দির প্রশাসনের পণ্ডিতরা প্রামাণ্য ধর্মগ্রন্থ ও পুরাণের ভিত্তিতে সেই সব যুক্তি খণ্ডন করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া, ইসকনের এই ইঙ্গিতেরও বিরোধিতা করেছে মন্দির প্রশাসন যে, পুরীর গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই ধরনের রথযাত্রার সমর্থন করেছেন। এসজেটিএর বক্তব্য, এই দাবি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে গজপতি মহারাজের ভাবমূর্তি ও সততা নিয়ে অযথা প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে জার্মানির বার্লিনে ইসকনের একটি রথযাত্রা অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয় বলেও দাবি করেছে মন্দির প্রশাসন।
অন্যদিকে, এই বিতর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি ইসকনের কান্ট্রি ডিরেক্টর অব কমিউনিকেশনস ও জাতীয় মুখপাত্র যুধিষ্ঠির গোবিন্দ দাস। তিনি বলেন, এসজেটিএর বিবৃতিটি এখনও তাঁর হাতে পৌঁছায়নি, তাই এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
ভারতের বাইরে রথযাত্রা উদযাপনের সময় নিয়ে ইসকন ও পুরী মন্দির প্রশাসনের মধ্যে মতবিরোধ নতুন নয়। বহু বছর ধরেই এই বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিতর্ক চলছে। সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।