
ডলারের বিপরীতে টাকাকে শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ আরবিআই-এর। এক্ষেত্রে ৩ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির রোজকার মার্কিন ডলারের চাহিদা মেটাতে নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করল আরবিআই। এছাড়া ফটকাবাজি রোধ, রিজার্ভ রিস্ক এবং কারেন্সি হেজিংয়ের বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আসুন বিষয়টা বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
কী করল আরবিআই?
ডলারের সাপেক্ষে রুপিকে শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কাছে ডলার বিক্রি করা হবে। সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এই নতুন নিয়ম। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম চালু থাকবে।
এই ব্যবস্থায় আরবিআই-এর বেছে নেওয়া কয়েকটি ব্যাঙ্ক এই তিন সরকারি তেল কোম্পানিকে মার্কিন ডলার বেচবে। কোম্পানিগুলি যাতে নিজেদের দৈনন্দিন কাজের জন্য বৈদশিক মুদ্রার চাহিদা মেটাতে পারে, সেটা এভাবেই নিশ্চিত করতে চাইছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
আর এই পদক্ষেপ এমন একটি সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন বিদেশি মুদ্রার বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের হস্তক্ষেপ ও সুদের হার বৃদ্ধির পরও টাকার দাম নিম্নমুখী। মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে নামছে টাকা। শুক্রবার ডলারের বিপরীতে রুপির দাম ছিল ৯৬.৭৩। এটা মে মাসে সর্বকালীন রেকর্ড ৯৬.৯৬-এর কাছাকাছি।
তাই আর সময় নষ্ট নয়, বরং ঝটপট জেনে নিন ঠিক কী ব্যবস্থা নিল আরবিআই-
১. অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে ও অন্যান্য খরচ মেটাতে তেল কোম্পানিগুলোর মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হয়। যার ফলে ডলার ও টাকার বিনিময় হার প্রভাবিত হয়। তাই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তাদের ঠিক করে দেওয়া ব্যাঙ্কগুলি তেল কোম্পানিগুলিকে ডলার বিক্রি করবে।
২. কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক নির্দিষ্ট কিছু বৈদেশিক মুদ্রা ডেরিভেটিভস লেনদেনের সীমা ১০০ মিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ৫ মিলিয়ন ডলার করেছে। এটাও টাকাকে শক্তিশালী করার অন্যতম পদ্ধতি।
৩. আরবিআই ২ মিলিয়ন ডলারের বেশি নোশনাল ভ্যালুযুক্ত যোগ্য রুপি-সংযুক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ডেরিভেটিভ চুক্তির জন্য একটি বৈদেশিক মুদ্রা রিস্ক রিজার্ভ (FERR) আবশ্যক করেছে। এক্ষেত্রে ডিলারদের আরবিআই-এর কাছে প্রতিটি লেনদেনের টাকার মূল্যের ২০% এর সমান একটি নগদ রিজার্ভ রাখতে হবে।
৪. হেজিংয়ের জন্য আরও নথি চাইছে সরকার। এক্ষেত্রে ডিলারদের অবশ্যই ফরেক্স ডেরিভেটিভ কন্ট্র্যাক্টে এন্ট্রি করা ইউজার্সদের কাছ থেকে একটি অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ ও সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১২.৯৫ বিলিয়ন ডলার কমে ৭৩৪.৬০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটা চিন্তার। এমন পরিস্থিতিতে টাকাকে শক্তিশালী করতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।