Advertisement

শিবির বদল নিয়ে মুখ খুললেন সায়নী, ভূপেন্দ্রর বাড়িতে কাকলী-সুদীপরা; সোমেই স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ?

ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে রয়েছেন বিজেপি নেতা নিশিকান্ত দুবেও। রয়েছেন শতাব্দী রায় , প্রসূন বন্দ্যোধ্যায় এবং মালা রায়েরা। এদিন দিল্লিতে উড়ে যান যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। বিমানবন্দরে সায়নীকে দেখা গেল অন্য লুকে। চুল ছোটো ছোটো করে কাটা। পরনে কূর্তি। সাংবাদিকদের বলেন, 'এখন বলব না। যখন বলার সময় আসবে বলব। ধীরে-ধীরে সব জানতে পারবেন সময় যখন আসবে। আর আমি সাংবাদিকদের জবাব দেব না। জবাব দিতে হলে সংসদীয় এলাকার মানুষকে দেব।'

ভোল পাল্টে ভূপেন্দ্রর বাড়িতে সায়নী, উপস্থিত আর কোন কোন বিদ্রোহী TMC সাংসদ?ভোল পাল্টে ভূপেন্দ্রর বাড়িতে সায়নী, উপস্থিত আর কোন কোন বিদ্রোহী TMC সাংসদ?
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 14 Jun 2026,
  • अपडेटेड 5:03 PM IST

তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবাসরীয় বিকেলে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে ফের বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষ সকলেই উপস্থিত ছিলেন এই বৈঠকে। আগেই এই দলে ছিলেন ২০ জন তৃণমূল সাংসদ ৷ এবার এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিতে চলেছেন আরও দু'জন ৷ এমনটাই দাবি করেছেন বিদ্রোহীদের অন্যতম নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

দিল্লি রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, বিদ্রোহী সাংসদরা সোমবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করবেন এবং একটি পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানাবেন । তিনি বলেন, 'আমরা একটি বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যাচ্ছি । ২২ জন সাংসদ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন । স্পিকার আমাদের সময় দিয়েছেন । সোমবার আমরা তাঁর সঙ্গে দেখা করব এবং পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জানাব।'

 ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে রয়েছেন বিজেপি নেতা  নিশিকান্ত দুবেও। রয়েছেন শতাব্দী রায় , প্রসূন বন্দ্যোধ্যায়  এবং মালা রায়েরা। এদিন দিল্লিতে  উড়ে যান যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ।  বিমানবন্দরে সায়নীকে দেখা গেল অন্য লুকে। চুল ছোটো ছোটো করে কাটা। পরনে কূর্তি। সাংবাদিকদের বলেন, 'এখন বলব না। যখন বলার সময় আসবে বলব। ধীরে-ধীরে সব জানতে পারবেন সময় যখন আসবে। আর আমি সাংবাদিকদের জবাব দেব না। জবাব দিতে হলে সংসদীয় এলাকার মানুষকে দেব।'

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় এক সংবাদমাধ্যমকে সায়নী ঘোষ বলেছিলেন, 'আমি চাড্ডা নই যে চাড্ডি হয়ে যাব।' ভোটে তৃণমূলের সোচনীয় হারের পরও মমতার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।   সায়নীকে তাঁর সেই পুরনো 'চাড্ডা' মন্তব্য স্মরণ করিয়ে এদিন এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, 'আপনি তো বলেছিলেন, আপনি চাড্ডা নন।' সেই প্রশ্ন এড়িয়ে সায়নী আজ বললেন, 'আমি আপনাকে কোনও জবাব দেব না, আমি আমার এলাকার ভোটারদের কাছে জবাবদিহি দেব।'

Advertisement

তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে এদিন  ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন-
মালা রায়
সায়নী ঘোষ
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
অরূপ চক্রবর্তী 
শতাব্দী রায়
কাকলি ঘোষ দস্তিদার
সুদীপ বন্দোপাধ্যায়
জগদীশ বসুনিয়া
পার্থ ভৌমিক
জুন মালিয়া
মিতালি বাগ

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ক্রমে চওড়া হচ্ছে ৷ চলতি সপ্তাহের শুরুতেই দলের লোকসভা সদস্যদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে ৷ বিদ্রোহী সাংসদরা প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন । গত সোমবার কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছিলেন যে, প্রায়  ২০ জন তৃণমূল সাংসদ তাঁদের সমর্থন করছেন এবং এই গোষ্ঠীটি কেন্দ্রে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থন করার পরিকল্পনা করছে । গত শুক্রবার ১৯ জন তৃণমূল সাংসদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি নথিও প্রকাশ্যে এসেছিল । স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, বাপি হালদার, শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, অসিত মাল, অরূপ চক্রবর্তী, কালিপদ সোরেন, দীপক অধিকারী (দেব), জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ এবং মালা রায় । ওই নথিতে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষেরও পৃথক স্বাক্ষর ছিল । সাংসদরা স্পিকারের কাছে চিঠি লিখে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একটি পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চেয়েছেন । তবে, চিঠিটি পেয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পিকারের সচিবালয় থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
 

Read more!
Advertisement
Advertisement