
দিল্লিতেও ভেঙে খান খান হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে হাজির ছিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। এদিন দুপুরে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, ২০ জন সাংসদের সই রয়েছে তাঁদের হাতে।
মহুয়া মৈত্র টিএমসি সাংসদ ইউসুফ পাঠানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, 'অমিত শাহ ফোন করেছেন বলেই কি আপনি দিল্লিতে দৌড়াচ্ছেন? কিছুটা সাহস রাখুন। আপনি ভারতের হয়ে খেলেছেন। আমাদের জেলা আপনাকে বিপুল ব্যবধানে ভোটে জিতিয়েছে। কিছুটা লজ্জা রাখুন এবং সাহসী হোন।'
সোমবার দুপুরে সন্দীপন সাহার সঙ্গে বিধানসভায় পৌঁছান কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র। তিনি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সঙ্গে দেখা করেন।
এরইমধ্যে সূত্র মারফত জানা যায়, লোকসভার মোট ১৪ জন TMC সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। দুপুর ২টোর পর ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান শুভেন্দু অধিকারী। তবে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদেরা তখনও ওই বাড়িতেই রয়েছেন।
যে কয়েকজন সাংসদের ছবি ওই বৈঠক থেকে প্রকাশ্যে এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের সাংসদ শর্মিলা সরকার, হাওড়ার সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কোচবিহারে সাংসদ জগদীশ বসুনিয়া, ঝাড়গ্রামের সাংসদ কালীপদ সোরেন এবং বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী। এছাড়াও, যে সাংসদরা উপস্থিত রয়েছে তাঁদের নাম এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
সংখ্যার দিক থেকে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে, লোকসভায় তৃণমূলের ২৯ জন সাংসদের মধ্যে দলবিরোধী আইনের হাত থেকে রেহাই পেতে ন্যূনতম ২২ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। আজ যে ১৪ জন সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গেলেন, তাঁদের ছাড়াও আরও ৮ জন সাংসদের বাইরে থেকে প্রয়োজন। সেই সমর্থন পাওয়া যায় কিনা, তা এখন দেখার।
তবে শুধুমাত্র লোকসভা নয় রাজ্যসভাতেও ভাঙছে TMC। রাজ্যসভায় ঘাসফুল শিবিরের সদস্য ছিল ১৩ জন। এদের মধ্যে বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দু শেখর রায় সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি দলও ছেড়েছেন তিনি। অন্যদিকে, জল্পনা ছড়িয়েছে টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে নিয়েও। ফলে লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও চাপের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস।
প্রসঙ্গত, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে আজ দিল্লিতে উপস্থিতি রয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। আর তাঁর উপস্থিতিতেই রাজধানীতে ভেঙে খান খান হয়ে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।