
মাত্র কিছুদিন আগে দলের বিরুদ্ধেই সংবাদমাধ্যমে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার যখন বিধানসভায় ঘর না পেয়ে মেঝেতে বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাঁর সতীর্থরা, তখন দিল্লিতে বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেখা গেল উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক। ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হল? bangla.aajtak.in-কে বললেন ঋতব্রত।
কী কথা হল শুভেন্দু-ঋতব্রতর?
বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়রা যখন ঘর না পেয়ে মেঝেতে বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তখন দিল্লিতে কী করছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়? bangla.aajtak.in-কে তিনি বলেন, 'আমি দিল্লি এসেছি কারণ আমার সাংসদ হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে এবং আমায় বাড়ি ছাড়তে হবে। আইডি কার্ড পরিবর্তন, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার মতো কিছু কাজ ছিল। আমি দুপুরবেলা বঙ্গভবনে খেতে গিয়েছিলাম। আমি যখন বেরোচ্ছি, মুখ্যমন্ত্রী ঢুকছিলেন। উনি নিজেই আমায় ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, MLA সাহেব কি বঙ্গভবনে এসেছেন। আমি বললাম, বাড়ি ছাড়তে এসেছি, তাই খেতে এসেছিলাম।'
ঋতব্রত জানান, আধ মিনিটের সাক্ষাৎ হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী আমায় বললেন, MLA-দের আমি খুব শীঘ্রই মিটিংয়ে ডাকছি, অবশ্যই আসবেন। এইটুকুই নমস্কার এবং প্রতি নমস্কার হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলের এক বিধায়কের সাক্ষাতে যা হওয়া উচিত, তাই হয়েছে।'
এদিকে, বিধানসভায় তাঁর সতীর্থরা মেঝেতে বসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, অসহযোগিতার অভিযোগ তুলছেন, তখন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ জল্পনা উস্কে দিয়েছে। ঋতব্রত বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী যদি আমায় এসে নমস্কার জানান, আমি কী করব? মুখ ঘুরিয়ে চলে যাব? আমি বুঝিওনি উনি ঢুকছেন। হঠাৎ আমায় MLA সাহেব বলে ডাকলেন। তবে আমি বেসিক ভদ্রতা করে কথা বলেছি। উনি তো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সেটা তো একটা চেয়ার, কোনও ব্যক্তি নন।' তবে ঋতব্রতর মতে, 'বিধানসভায় সত্যিই আমাদের বসার জায়গা দেওয়া হয়নি। এটা তো সংসদীয় গণতন্ত্রে সঠিক নয়। তা বলে মুখ্যমন্ত্রী যদি আমায় দেখে নমস্কার করেন, আমি তো মুখ ঘুরিয়ে চলে যেতে পারি না।'