
BRICS সামিটে যোগ দিতে ৩ দিনের ভারত সফরে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইতিমধ্যেই তিনি দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন। আজ অর্থাত্ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করবেন রুশ প্রেসিডেন্ট। BRICS সামিট শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী X হ্যান্ডেলে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন বিশ্বের সব দেশকে। মোদী লিখলেন, 'আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নেতারা ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে যোগ দিতে একত্রিত হবেন। আমি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী, বিশ্বকল্যাণের লক্ষ্যে এই সম্মেলনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক ও অর্থবহ আলোচনা হবে।'
দিল্লি এসে গিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন
এদিন পুতিনকে স্বাগত জানাতে পালাম এয়ারফোর্স স্টেশনে ছিলেন বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কৃতী বর্ধন সিং। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটাই রাশিয়ার বাইরে BRICS সামিটে প্রথম অংশ নিলেন পুতিন। আজ দুপুর সাড়ে ৩টেয় মোদী ও পুতিনের বৈঠক হবে। প্রতিরক্ষা, এনার্জি, প্রযুক্তি, ওষুধ শিল্প সহ নানা ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ভারতের ব্যবসায়িক আদানপ্রদান ও সম্পর্ক দৃঢ়় করার বিষয়েই এই বৈঠক বলে জানানো হয়েছে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে।
ভারত-রাশিয়ার প্রতিরক্ষা চুক্তি
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, রাশিয়া ও ভারত ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ তৈরির বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। মস্কো ইতিমধ্যেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বাকি ইউনিটগুলি ভারতকে সরবরাহের কাজ সম্পূর্ণ করবে। পাশাপাশি Su-57 যুদ্ধবিমান সরবরাহের প্রস্তাব নিয়েও দুই দেশ আলোচনা করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য আবেদন
পেসকভ আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা এখনও শক্তিশালী রয়েছে। ভারতের নতুন অসমারিক পরমাণু চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েও রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে আলোচনা ও দর-কষাকষি চলছে। এদিনের বৈঠকে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে ও শান্তি প্রক্রিয়া নিয়েও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আলোচনা হবে। এর আগে গত সপ্তাহ বিসকেকে SCO সামিটে বৈঠক করেছেন মোদী ও পুতিন। সেই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য আবেদন করেছেন মোদী।
BRICS সম্মেলনকে কার্যকর মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরছে দিল্লি
শনিবার থেকে দিল্লিতে আয়োজিত দু’দিনের BRICS সম্মেলনে খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলির সম্মিলিত সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্রমশ বিভক্ত হয়ে পড়া ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় ব্রিকসকে একটি কার্যকর মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে নয়াদিল্লি।
ভারতে আসছেন শি জিনপিং
সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল-সিসি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি এবং ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুং-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতা। শি জিনপিংয়ের এই সফর ২০১৯ সালের পর ভারতে তাঁর প্রথম সফর।