
বিহারে নীতীশ কুমারের দুই দশকের শাসনের অবসান। নীতীশের দিল্লিতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে বিহারের ক্ষমতার রাশ এখন বিজেপির হাতে এবং এই প্রথমবার রাজ্যে দলটির একজন মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। বিহারের তুন মুখ্যমন্ত্রী হলেন সম্রাট চৌধুরি। বিহারের কুর্সিতে নয়া 'সম্রাট'।
মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার মঙ্গলবার তাঁর শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক সেরে বাসভবনে ফেরেন। মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত বৈঠকে তিনি মন্ত্রীদের তাঁর পদত্যাগের কথা জানান। এরপর তিনি মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করেন। নীতীশ কুমারের আগমনের আগে নিরাপত্তার কারণে রাজভবনগামী সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। নীতীশ কুমার দুপুর ৩টের দিকে রাজ্যপালের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিলেন এবং বিকেল ৪টের মধ্যে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হল।
তাই সম্রাট চৌধুরিকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করা হল
বিজেপি হাইকমান্ড দলের বিহার বিধানসভা নেতা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেছে। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের উপস্থিতিতে BJP নেতা নির্বাচন করে সম্রাট চৌধুরি। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি তার সমস্ত বিধায়ককে পটনায় ডেকে পাঠায়। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে নিযুক্ত তিন ডজনেরও বেশি বিজেপি বিধায়ক পটনায় পৌঁছন। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে নীতীশ কুমারের পদত্যাগের পর বিজেপি বিধায়ক দলের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করার পর, জোটের পাঁচটি দলের বিধায়করা বিকেল ৪টায় এনডিএ বিধায়ক দলের বৈঠকে সম্রাট চৌধুরির নামটি অনুমোদন করেন। নিয়ম মতো বিজেপি বিধায়ক দলের নেতাই এনডিএ বিধায়ক দলের নেতা এবং মুখ্যমন্ত্রী হন। তাই সম্রাট চৌধুরিকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করা হল।
অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হল
এনডিএ বিধায়ক দলের বৈঠকের পর নতুন নেতা বা মুখ্যমন্ত্রী নতুন সরকার গঠনের দাবি জানাতে রাজভবনে যান। বিহার সরকারে, বিজেপি কোটা থেকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে মুখ্যমন্ত্রী পদের একজন শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। সম্রাট চৌধুরির বাসভবনের চারপাশের নিরাপত্তা বৃদ্ধি থেকে এই ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের প্রধান সচিব দীপক কুমার চৌধুরীর বাসভবনে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন, যা ক্ষমতার পরিবর্তনের একটি লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হল।
কে সম্রাট চৌধুরি ও কীভাবে উত্থান?
বিহারের রাজনীতিতে বর্তমান সময়ের সবথেকে চর্চিত নাম সম্রাট চৌধুরি। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তাঁকে বিহারের ভবিষ্যৎ মুখ্যমন্ত্রী। যার পেছনে রয়েছে তাঁর দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মজবুত জাতিগত সমীকরণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা।
সম্রাট চৌধুরির রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯০-এর দশকে। মণ্ডল রাজনীতির উত্থান থেকে শুরু করে আজকের জোট রাজনীতির যুগ। তিনি প্রতিটি ধাপের সাক্ষী। রাজনৈতিক জীবনে তিনি আরজেডি (RJD) এবং জেডিইউ (JD-U) হয়ে ২০১৮ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। এই দীর্ঘ পথচলায় তিনি কেবল দলই বদলাননি, বরং প্রতিটি দলের অন্দরের সমীকরণ বুঝে নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছেন। ১৯৯৯ সালে রাবড়ি দেবী সরকারে মন্ত্রী হওয়া থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হওয়া, তাঁর প্রশাসনিক গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। বিহারের রাজনীতিতে জাতপাত একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্রাট চৌধুরি কুশওয়াহা (বা কৈরি) সম্প্রদায়ের মানুষ। নীতীশ কুমারের কুর্মি এবং সম্রাট চৌধুরীর কুশওয়াহা ভোটব্যাঙ্ক একজোট হলে তা বিহারের রাজনীতিতে এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হয়।