
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র গরম এবং বিলম্বিত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর পর অবশেষে গোটা দেশের জন্য সুখবর। স্যাটেলাইট চিত্রে উত্তর বঙ্গোপসাগর থেকে জম্মু ও কাশ্মীর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সিস্টেম গঠিত হতে দেখা গেছে , যার ফলে আগামী দিনগুলিতে এই অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের মৌসম বিভাগ (IMD ) জানিয়েছে যে, মৌসুমী অক্ষরেখা এখন তৈরি হয়েছে, যদিও এটি হিমালয়ের পাদদেশের কাছাকাছি অবস্থান করছে। অক্ষরেখাটি ধীরে ধীরে দক্ষিণে তার স্বাভাবিক অবস্থানের দিকে সরে যাওয়ায়, আবহাওয়াবিদরা আশা করছেন যে উত্তর ভারত জুড়ে ঝড়বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা ১ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে এই অঞ্চলে মৌসুমী বায়ুকে ঢুকতে সাহায্য করবে।
মৌসুমী অক্ষরেখার পাশাপাশি, পূর্বাভাস মডেলগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই সপ্তাহের শেষের দিকে বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই সিস্টেমটি মৌসুমি বায়ুর প্রবাহকে শক্তিশালী করবে, উত্তর ভারতে আরও আর্দ্রতা নিয়ে আসবে এবং দিল্লি, পঞ্জাব, হরিয়ানা, পশ্চিম উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থান জুড়ে ব্যাপক বৃষ্টি ও বজ্রঝড় ঘটাবে।
ইতিমধ্যেই অবিরাম বর্ষণে অরুণাচল প্রদেশ ও অসমে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। ২৪ জুনের মধ্যে দেশের ২২টি রাজ্যে বর্ষা এসে গেছে। এরপর থেকে এর গতি কমে গেছে। মৌসম বিভাগের মতে, ৫ জুলাইয়ের মধ্যে বাকি রাজ্যগুলিতে বর্ষা পৌঁছাতে পারে। উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা এবং দিল্লি—এই চারটি রাজ্যের অনেক এলাকায় প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি চলছে।
বাংলায় ভারী বৃষ্টি
রাজস্থান থেকে বিহার পর্যন্ত মৌসুমী অক্ষরেখা বিস্তৃত, যেটি হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের উপর দিয়ে গিয়েছে। দুই সিস্টেমের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প ঢুকবে রাজ্যে। যার ফলে উত্তরবঙ্গে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, সেইসঙ্গে দক্ষিণবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। উত্তরবঙ্গে আগামী ৯৬ ঘণ্টায় দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার-সহ একাধিক জেলায় প্রবল বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা-সহ বহু জেলায় ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ, দমকা ঝোড়ো হাওয়া ও জল জমার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
উত্তরবঙ্গে কমলা সতর্কতা
উত্তরবঙ্গে টানা ভারী বৃষ্টির পর আপাতত লাল সতর্কতা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টির হাত থেকে নিস্তার নেই। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলায় এক-দু’টি স্থানে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই জেলাগুলির জন্যও জারি করা হয়েছে অরেঞ্জ অ্যালার্ট। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় থাকছে।
দক্ষিণবঙ্গে দাপট বাড়বে বর্ষার
দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই আগামী ২৪ ঘণ্টায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হতে পারে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান ও নদিয়া জেলায়। এই জেলাগুলিতে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এই জেলাগুলিতে আবহাওয়া দফতরের তরফে অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও সপ্তাহান্তে রীতিমতো দাপট দেখাবে বর্ষা। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা বুধবার থেকে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে প্রায় সব জেলায়। আর বৃষ্টি না হলে গরম এবং অস্বস্তি থাকবে। মঙ্গলে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির কমলা সর্তকতা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ায়। বুধবার ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা। হলুদ সতর্কতা জারি থাকবে দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায়। বৃষ্টির সঙ্গে চলবে বজ্রপাতও। তবে শনি ও রবিবার ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা থাকবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে। কলকাতা-সহ বাকি সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা।
কলকাতাতেও বৃষ্টি চলবে
আগামী ২৪ ঘণ্টা কলকাতার আকাশ সাধারণত মেঘলা থাকবে। শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি অনুভূত হবে। হাওয়া অফিস বলছে, কলকাতায় চলতি সপ্তাহে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। শনিবার থেকে বৃষ্টি বাড়বে। রবিবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে শহরে। ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।