
এবার জেপি নাড্ডার সঙ্গে লাঞ্চ করতে দেখা গেল মমতাপন্থী তৃণমূলের দুই সাংসদ, সৌগত রায় ও শত্রুঘ্ন সিনহাকে। এই মুহূর্তে সংসদের বাদল অধিবেশনে অংশ নিতে সকলেই রয়েছেন নয়াদিল্লিতে। তার ফাঁকেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন দু'জনকে দেখে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে। তবে কি এবার আরও ভাঙন ধরছে কালীঘাটে?
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর ৩ টুকরো হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, ডেরেক ও'ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্ররা রয়েছেন কালীঘাটে। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জয়ী এবং পরাজিত বিধায়কদের একটা বড় অংশ নিজেদের 'আসল' তৃণমূল বলে দাবি করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা তৃণমূল কংগ্রেসের ফান্ড এবং লোগোর দাবি করছেন। ওদিকে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের লোকসভার ২০ জন সাংসদ যোগ দিয়েছেন ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়াতে (NCPI)। যাঁরা আবার NDA-র শরিক হয়ে গিয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেওয়া সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক যোগ দিয়েছেন BJP-তে। এ হেন পরিস্থিতিতে নতুন করে সৌগত এবং শত্রুঘ্নর নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক, নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছে।
বুধবার সংসদের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে যক্ষ্মা সংক্রান্ত একটি বৈঠক ছিল। যাতে বাংলার সব সাংসদ অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে দেখা গিয়েছিল তৃণমূলত্যাগী সাংসদ শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, জুন মালিয়া সহ আরও অনেককেই। ওই অনুষ্ঠানেই সম্ভবত ছিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা এবং সৌগত রায়। সূত্রের খবর, নাড্ডার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় শত্রুঘ্নর। একই টেবিলে বসে খাওয়াদাওয়া করছিলেন সৌগত রায়। যদিও কী বিষয়ে কথা হয়েছে তাঁদের, তা এখনও জানা যায়নি।
পরে আরও একটি ছবিতে দেখা যায়, একটি টেবিলে বসে খাওয়া দাওয়া করছেন জে পি নাড্ডা আর সেই টেবিলে হাত রেখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সৌগত রায়। সেক্ষেত্রে এই দু'জন শিবির বদল করতে চলেছেন কি না, তা নিয়ে অবশ্য প্রকাশ্যে কেউই কোনও মন্তব্য করেননি।