
বিহারে স্কুলের মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ ১০০-এর বেশি পড়ুয়া। ঘটনা ওই রাজ্যের সুপৌল জেলার একটি স্কুলের। সেখানে তরকারিতে মৃত বিছে থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে।
পড়ুয়াদের অভিযোগ, তাদের দেওয়া হয়েছিল আলু-ছোলার তরকারির। তার মধ্যে একটি মৃত বিছে পাওয়া গিয়েছিল। ঘটনাটি ঘটেছে ত্রিবেণীগঞ্জ থানার অন্তর্গত ওয়ার্ড নম্বর ১০-এর মিডল স্কুল মিরজাওয়ায়।
যতদূর খবর, পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্কুল চত্বরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। এরপর ছোট গাড়ি এবং অন্যান্য যানবাহনে করে অসুস্থ পড়ুয়াদের দ্রুত ত্রিবেণীগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই শুরু হয় চিকিৎসা।
চিকিৎসকদের তরফে জানান হয়েছে, এখনও পর্যন্ত সমস্ত পড়ুয়াই চিকিৎসাধীন। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তারা বিপদের বাইরে রয়েছে।
মিড-ডে মিল খাওয়ার পরই অসুস্থ পড়ুয়ারা
এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছে পড়ুয়ারা। তাদের দাবি, বুধবার মিড-ডে মিলে ভাত এবং আলু-ছোলার তরকারি দেওয়া হয়েছিল। খাওয়ার সময় তারা তরকারির মধ্যে একটি মৃত বিছে দেখতে পায়। তবে তার আগেই বহু পড়ুয়া সেই খাবার খেয়ে ফেলেছিল।
খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ কয়েকজন পড়ুয়ার গলায় জ্বালা, পেট ব্যথা, বমি, মাথা ঘোরা এবং অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কারও শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। কেউ আবার বমি করতে শুরু করে। আবার কেউ অজ্ঞান হয়ে যায় বলেও অভিযোগ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকরা দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। অসুস্থ পড়ুয়াদের হাসপাতালে পাঠান।
তদন্তের নির্দেশ
মিড-ডে মিল প্রকল্পের জেলা প্রোজেক্ট ম্যানেজার পঙ্কজ কুমার সিং জানান, জেলা শিক্ষা আধিকারিকের কাছ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে বিষয়টির খবর পাওয়া গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, 'মিড-ডে মিল খাওয়ার পর কয়েকজন পড়ুয়া পেট ব্যথা ও বমির অভিযোগ করেছে। কিছু পড়ুয়া দাবি করেছে, খাবারের মধ্যে একটি বিছে পাওয়া গিয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কোনওরকম গাফিলতির প্রমাণ মিললে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
ত্রিবেণীগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: বি এন পাসওয়ান জানান, মিড-ডে মিল খাওয়ার পর পেট ব্যথা, মাথা ব্যথা, বমি এবং আতঙ্কজনিত সমস্যার অভিযোগ নিয়ে শতাধিক পড়ুয়াকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
তিনি বলেন, 'সমস্ত পড়ুয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক। তারা বিপদের বাইরে রয়েছে।'