
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট। দু'বছর পর হয়ে গেল। আরও একটি ৫ অগাস্ট। সে দিন বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে এসে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে ছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৬ সালের ৫ অগাস্ট প্রথমবার প্রকাশ্যে বক্তব্য পেশ করতে চলেছেন হাসিনা। বাংলাদেশ ছাড়ার পরে এই প্রথম জনসমক্ষে আসছেন আওয়ামী লিগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনা।
হাসিনার ভাষণ সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশে
হাসিনার ভাষণ ঘিরে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বিএনপি সরকার তীব্র বিরোধিতা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ সরকার রীতিমতো নির্দেশ দিয়েছে, বাংলাদেশের কোনও প্রচারমাধ্যম যেন হাসিনার ভাষণ সম্প্রচার না করে। এমনকী বাংলাদেশ সোমবার ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লিগের সঙ্গে যুক্ত অন্য কোনও ব্যক্তিকে যেন ভারতের মাটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক ভাষণ দিতে বা এমন কোনও কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে না দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে গণহত্যার অপরাধে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত ক্ষমাতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তৃতা দেওয়াকে ভারত সরকার সমর্থন করে কি না, তা জানতে চেয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সোমবার বলেন, ‘এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান জানতে চাই আমরা।’
হাসিনার ভাষণ নিয়ে কী জানাল কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রক?
বাংলাদেশের এই সব আবেদনকে কার্যত পাত্তাই দিল না ভারত। হাসিনার ভাষণ ইস্যুতে আজ অর্থাত্ মঙ্গলবার কেন্দ্রের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানালেন, 'আপনি যে অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করছেন, সেটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে। এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। সেই মঞ্চে যে কোনও মতামত প্রকাশ করা হলে, সরকার সেটিও এনডোর্স করছে না।'
৫ অগাস্ট জনসমক্ষে আসছেন হাসিনা
২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের জেরে আওয়ামী লিগ সরকারের পতনের পর থেকেই ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত প্রায় দু'বছর তিনি জনসমক্ষে আসেননি। তবে বুধবার, ৫ অগাস্ট, দীর্ঘ বিরতির পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে চলেছেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস' ক্লাব-এর উদ্যোগে নয়াদিল্লির মথুরা রোডে অবস্থিত স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তাবিত রোডম্যাপ নিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন।