
Shivalik LPG Carrier: অপেক্ষার অবসান। খুব শীঘ্রই ভারতে পৌঁছতে চলেছে ২টি গ্যাসবাহী জাহাজ। ২-৩ দিন আগেই এই দুই জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হতে দিয়েছিল ইরান। দেশজুড়ে গ্যাস সঙ্কটের আশঙ্কা কারও অজানা নয়। এহেন পরিস্থিতিতে এটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। তবে এই জাহাজগুলিতে ঠিক কতটা LPG আছে? তাতে কি আপাতত সঙ্কট মিটবে? তার আগে জেনে নেওয়া যাক, এক-একটি ট্যাঙ্কারে ঠিক কত গ্যাস ধরে। আপাতত দুই জাহাজই গুজরাত উপকূলের খুব কাছাকাছি রয়েছে। একটির নাম 'নন্দাদেবী'। অপরটির নাম 'শিবালিক'। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই শিবালিক জাহাজটি গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে(Mundra Port) পৌঁছতে পারে। জাহাজটিতে প্রায় ৪৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপাতত এতে দেশের গ্যাস সরবরাহ সঙ্কট কিছুটা হলেও মিটবে। অন্যদিকে নন্দাদেবীও আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কান্দলা পোর্টে ডকিং করবে।
৪৫,০০০ মেট্রিক টন LPG দিয়ে কতগুলি গ্যাস সিলিন্ডার ভরা যায়?
পুরোটাই যে রান্নার গ্যাসের জন্য সাপ্লাই হবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। তাছাড়া প্রসেসিংয়ের সময়ও পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। তবুও একটি Rough হিসেব করে দেখাই যায়।
প্রথমে এটি মেট্রিক টন থেকে কিলোগ্রামে হিসাব করতে হবে।
১ মেট্রিক টন = ১,০০০ কিলোগ্রাম।
অর্থাৎ,
৪৫,০০০ মেট্রিক টন = ৪,৫০,০০,০০০ কিলোগ্রাম (৪.৫ কোটি কেজি) এলপিজি।
বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার (১৪.২ কেজি)
ভারতে বাড়িতে যে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়, তাতে সাধারণত ১৪.২ কেজি গ্যাস থাকে।
হিসেব অনুযায়ী,
৪,৫০,০০,০০০ ÷ ১৪.২ ≈ ৩১,৬৯,০০০টি সিলিন্ডার
অর্থাৎ প্রায় ৩১-৩২ লক্ষ ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডার ভরা সম্ভব।
বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার (১৯ কেজি)
হোটেল, রেস্তরাঁ বা ব্যবসায়িক কাজে সাধারণত ১৯ কেজির সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়।
হিসেব অনুযায়ী,
৪,৫০,০০,০০০ ÷ ১৯ ≈ ২৩,৬৮,০০০টি সিলিন্ডার
অর্থাৎ প্রায় ২৩-২৪ লক্ষ বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার ভরা সম্ভব।
তাই একসঙ্গে এত পরিমাণ এলপিজি দেশে পৌঁছানো জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বস্তির খবর বলেই মনে করা হচ্ছে।
শুধু LPG-ই নয়। আর একটি ভারতীয় তেলবাহী জাহাজও নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে বেরিয়ে এসেছে। Jag Laadki নামের ওই ট্যাঙ্কারটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরা বন্দর থেকে প্রায় ৮০,৮০০ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
সরকারি সূত্রে খবর, ওই অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তার উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একাধিক মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে কো-অর্ডিনেশন চলছে।
এহেন পরিস্থিতির মধ্যেই আরও একটি ভারতীয় পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ Jag Prakash গত শুক্রবার যুদ্ধপ্রভাবিত হরমুজ প্রণালী পার করে নিরাপদে বেরিয়ে এসেছে। ওমানের সোহার বন্দর থেকে পেট্রোল নিয়ে সেটি বর্তমানে তানজানিয়ার টাঙ্গা বন্দরের দিকে এগোচ্ছে। আগামী ২১ মার্চ জাহাজটি সেখানে পৌঁছবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে পারস্য উপসাগরের পশ্চিম অংশে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। তাতে মোট ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, ভারতের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। দেশের মোট কাঁচা তেলের প্রায় ৮৮ শতাংশ, প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং এলপিজির প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর বেশিরভাগটাই আসে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির চেষ্টা করছে। তবে গ্যাসের সরবরাহ কিছু ক্ষেত্রে সীমিত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।