
ভয়াবহ দুর্ঘটনা সিকিমে। ওই রাজ্যের নামচি জেলায় একটি নির্মীয়মান টানেল বা সুড়ঙ্গের বাইরে বিরাট ধস নামে। যার জেরে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এর আগে জানা গিয়েছিল এই ধসে ২৭ জন কর্মী ভিতরে আটকে পড়েছিলেন। ভিতরে আটকে পড়া কর্মীদের উদ্ধার কাজ এখনও চলছে।
জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে এই দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহগুলিকে গ্যাংটকের এসটিএনএম হাসপাতাল এবং নামচি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, এই সুড়ঙ্গের ভিতরে মিথেন গ্যাস থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার ফলে উদ্ধার কাজ চালাতে গিয়ে বিশেষ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই গ্যাসের জন্য উদ্ধারকর্মীদের স্বাস্থ্যের হালও বিগড়ে যাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নামচি জেলা প্রশাসন, এনএইচপিসি আধিকারিক, এসডিআরএফ, এনডিআরএফ, সিকিম পুলিশ, দমকল, ইমার্জেন্সি সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং অন্যান্য সমস্ত বিভাগ মিলে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। এসএসডিএমএ বর্তমানে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
এই প্রসঙ্গে বলি, এই দুর্ঘটনা সমরডুং টানেলে হয়েছে। ধস নামার ফলে টানেলের প্রবেশ পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ভিতরে আটকে পড়া কর্মীদের উদ্ধারের জন্য রেসকিউ অপারেশন চলছে। তবে এখনও টানেলের ভিতরে আটকে থাকা কর্মীরা কী অবস্থায় রয়েছেন, সেই নিয়ে বিশেষ কিছু জানান হয়নি।
ঠিক কী হয়েছে?
এনএইচপিসি তিস্তা স্টেজ ৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের এডিআইটি সুড়ঙ্গটি তৈরির কাজ চলছিল। কাজটির দায়িত্বে রয়েছে পাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি নির্মান সংস্থা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার গভীরে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক মিথেন গ্যাস জমে ছিল। সেই জমে থাকা গ্যাস সুড়ঙ্গ থেকে বাইরে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। এই সময়ই আচমকা এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড কম্পনে সুড়ঙ্গের ভেতরের ও বাইরের পাহাড়ি অংশে ধস নামে। তাতে টানেলের মুখটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিস্ফোরণের পরপরই সুড়ঙ্গের মুখে থাকা কয়েকজন শ্রমিক কোনওক্রমে প্রাণ হাতে নিয়ে বাইরে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন বলে খবর। কিন্তু ভেতরের দিকে কাজ করতে থাকা বেশ কয়েকজন কর্মী আটকা পড়ে যান। এখন তাঁদের খোঁজেই চলছে উদ্ধার অভিযান।